সাপাহারে জোরপূর্বক সরকারী রাস্তা দখলের অভিযোগ
মনিরুল ইসলাম, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি :
নওগাঁর সাপাহারে জোরপূর্বক সরকারী রাস্তা দখল করে ভীত নির্মানের অভিযোগ উঠেছে ফরজেন আলী নামে এক লোকের বিরুদ্ধে । ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আইহাই ইউনিয়নের মির্জাপুর পলাশডাঙ্গা গ্রামে। অভিযুক্ত ফরজেন আলী উপজেলার মির্জাপুর পলাশডাঙ্গা গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় শতবছর ধরে পাতাড়ী ও আইহাই ইউনিয়নের লোকজন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু হঠাৎ করেই ২৭ জানুয়ারী সকাল ১০ টার দিকে সরকারী রাস্তার মধ্যবর্তী স্থানে পিলার দিয়ে স্থাপনা তৈরী শুরু করে। স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে সে কারো কথায় কর্ণপাত না করে স্থাপনার কাজ অব্যহত রাখে।
পলাশডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুর রহমান বলেন, আমরা জন্মের পর থেকে এই রাস্তা দেখছি। এই রাস্তা দিয়ে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার লোকজন কৃষিপণ্য বহন করে। এইভাবে পিলার দেয়ার কারনে জনগনের চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বনি ইসরায়েল বলেন, এই রাস্তাটি প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো। আমরা এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করি।এছাড়াও এই রাস্তা দিয়ে নানা ধরনের যানবহন চলাচল করে। সরকারী রাস্তার উপর অবৈধভাবে পিলার বসানোর জন্য ভ্যানগাড়ী পর্যন্ত পার হতে পাচ্ছে না। যাতে করে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এবিষয়ে ফরজেন আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে ফরজেন আলীর ছেলে মোখলেছুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, এই জায়গাটি আমাদের ক্রয়কৃত। আমরা মাপার পরে তিন ফিট বাইরে রেখে পিলার দিয়েছি।
বিষয়টি জানার পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহজাহান হোসেন মন্ডল এবং আইহাই ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জিয়াউজ্জামান টিটু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এব্যাপারে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জিয়াউজ্জামান টিটু বলেন, এটি সরকারী রাস্তা। জোরপূর্বক দখল করার একটি প্রহসন চলছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
নির্মান কাজ বন্ধ করে সরকারী সম্পদ রক্ষা করতে স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।