নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর বাগমারায় স্ত্রী পুলিশ সদস্য হওয়ায় স্বামী আতিকুর রহমান স্বপনের দাপটে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তার বিরুদ্ধে কৃষককে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ উঠেছে। জোরপূর্বক পুকুর খননসহ লোকজন কে মারপিটের একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি আতিকুর রহমান স্বপন আবারো জোরপূর্বক কৃষকদের জমি দখল করে পুকুর খনন শুরু করে। এতে জমি মালিকরা জমি দিতে অসম্মতি জানায়।
পুকুর খনন বন্ধে তারা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে লিখিত আবেদনও করে। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার (১২জানুয়ারী) দুপুরে স্বপনের নেতৃত্বে লাঠিসোটা নিয়ে মজিদপুর গ্রামের কৃষক লালন এর উপর হামলা চালিয়ে মারাত্বক আহত করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে লালন কে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্ততি চলছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আতিকুর রহমান স্বপন শ্রীপুর ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি। তার স্ত্রী বাগমারা থানার পুলিশ সদস্য। থানা থেকে স্বপনের বাড়ি তিন কিলোমিটার দুরে অবস্থিত। সরকারী আইনে ফসলী জমিতে পুকুর খননে নিষেধজ্ঞা থাকলেও আইনের তোয়াক্কা না করে কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখল করে রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন দিয়ে খনন কাজ করছে স্বপন।
সম্প্রতি মজিদপুর গ্রামে খয়রা বিলে ফসলী জমিতে জমি মালিকদের অসম্মতিতে জোরপূর্বক পুকুর খনন কাজ করেত আরম্ভ করেন আতিকুর রহমান স্বপন। এর আগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধ ভাবে পুকুর খননের খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়। কিন্ত আতিকুর রহমান স্বপন ইতিপূর্বে একাধিক দিঘী খনন করেছেন। বর্তমানেও কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখল করে পুকুর খনন কাজ আরম্ভ করেছেন। তার এ কাজে সম্মতি না থাকায় নিজ জমিতে কাজ শেষে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার (১২জানুয়ারী) দুপুরে মজিদপুর গ্রামের মোজাফ্ফর হোসেন এর ছেলে লালনের উপর হামলা চালিয়ে আহত করে। স্বপনের নেতৃত্বে ১০/১৫জন লাঠিসোটা নিয়ে কৃষক লালনের উপর হামলা চালায়। প্রথমে তাকে আক্রমন করা হলে সে প্রাণ ভয়ে দৌড় দিয়ে স্থানীয় এক বাড়ির ভেতর ঢুকার চেষ্টা করে। আক্রমনকারীরাও তাকে ধাওয়া করে পিটিয়ে আহত করে। তার চীৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে লালন কে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এর আগে লালনসহ অন্তত ১৮জন কৃষক ওই এলাকায় পুকুর খনন বন্ধের দাবি জানান। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, স্ত্রী পুলিশ সদস্য হওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের প্রভাব খাটিয়ে চলে স্বপন। তার দাপটে অতিষ্ট এলাকাবাসী। এসব ব্যাপারে আতিকুর রহমান স্বপনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন মৃধা জানান, জোরপূর্বক পুকুর খননে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করেই মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। ওইখানে পুকুর খনন বন্ধের আবেদন জানিয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অফিসার ইনচার্জ বরাবর কৃষকরা লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন সেখানে পুকুর খনন বন্ধের আদেশ দেয়। যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ইসলাম, এখন পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।