• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নওগাঁর নিয়ামতপুরের বাহাদুরপুর গ্রামে গভীর রাতে গলা কেটে একই পরিবারের ৪ জন সদস্যকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। কারাগারেই এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে নোয়াখালীর শিক্ষার্থী কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশের বন্ধ জুটমিল গুলো চালু করা হবে : বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম নওগাঁর নিয়ামতপুরে রাতের অন্ধকারে নৃশংসতা; একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত হলেন মাহমুদা হাবিবা উত্তর জাপানে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা জারি নওগাঁর নিয়ামতপুরের বাহাদুরপুর গ্রামে গভীর রাতে গলা কেটে একই পরিবারের ৪ জন সদস্যকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নাচোলে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জনপদ গাজীপুরের ভাওয়াল গড়: সংরক্ষণের অভাবে হারাচ্ছে জৌলুস মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল,তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে-বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কালীগঞ্জের আড়াইশ বছরের ‘১৩ গম্বুজ মসজিদ’: অযত্নে বিলীন হচ্ছে মুঘল স্থাপত্যের স্মৃতি

Reporter Name / ৩১ Time View
Update : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

​সাব্বির হোসাইন :

​গাজীপুরের কালীগঞ্জে অবস্থিত প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন ‘১৩ গম্বুজ মসজিদ’টি মুঘল স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে আজও টিকে আছে। চুন-সুরকি আর পাতলা ইটের নিপুণ গাঁথুনিতে নির্মিত এই মসজিদটি কেবল ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং গাজীপুর জেলার ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। তবে দীর্ঘ আড়াই শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এখনো জাতীয়ভাবে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি এই প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদটি।
​কালীগঞ্জ উপজেলার এই ঐতিহাসিক মসজিদটির সবচেয়ে দৃষ্টি নন্দন বৈশিষ্ট্য হলো এর ছাদজুড়ে থাকা সুবিন্যস্ত ১৩টি গম্বুজ। তৎকালীন কারিগরদের স্থাপত্যকলা ও নিপুণ ছোঁয়ায় নির্মিত এই গম্বুজগুলো মসজিদটিকে স্থানীয় ও পর্যটকদের কাছে এক অনন্য দর্শনীয় স্থানে পরিণত করেছে। স্থানীয়দের মতে, সংস্কারের অভাবে মসজিদটির মূল অবকাঠামো কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর আদি রূপ ও নান্দনিকতা এখনো অটুট রয়েছে।
​ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, কালীগঞ্জের এই স্থাপনার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কাপাসিয়ার সুলতানপুরেও রয়েছে প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো শাহী মসজিদ। এই প্রাচীন মসজিদগুলো প্রমাণ করে যে, এই অঞ্চলটি কয়েকশ বছর আগে থেকেই একটি সমৃদ্ধ জনপদ এবং ইসলামী সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল।
​বর্তমানে মসজিদটির বাহ্যিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে স্থানীয়ভাবে কিছু সংস্কার ও রং করা হয়েছে। তবে সচেতন মহলের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কারিগরি তদারকি ছাড়া এই প্রাচীন কাঠামোর স্থায়ী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর দেয়ালের সূক্ষ্ম নকশা ও আদি কারুকার্য ক্রমেই নষ্ট হতে শুরু করেছে।
​এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, অবিলম্বে এই ১৩ গম্বুজ মসজিদটিকে দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের তালিকাভুক্ত করা হোক। একইসাথে এটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হলে পর্যটন শিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
​গাজীপুরের এই গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সাব্বির হোসাইন
সাংগঠনিক সম্পাদক, কালীগঞ্জ উপজেলা সাংবাদিক ফোরাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category