• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
তিতাসে ৫৯২ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প, গ্যাস নিয়ে মিলতে পারে বড় সুখবর একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন, বড় চমক কোন খাতে? সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সুখবর, কাল থেকে কোন জাহাজ কখন ছাড়বে? পোরশায় দুই অবৈধ ইটভাটাকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা। ব্যবসায়ী মানিক হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন এআইয়ের চাপে ক্যানভায় বড় ছাঁটাই, ১২০০ কর্মীর সামনে অনিশ্চয়তা সেন্টমার্টিনে অগ্নিনিরাপত্তায় কোস্ট গার্ডের যৌথ মহড়া নতুন এনআইডি পেয়েই বিপাকে প্রবাসী, তাঁর নামে ১৮টি সিম নিবন্ধন ঢাবিতে ৯ মাসের বিনা মূল্যের রুশ ভাষা কোর্স চালুর উদ্যোগ দৌলতপুর খাদ্যগুদামে দুদকের অভিযান, নথিতে মিলল অসংগতি

‘ইনশাআল্লাহ’ থেকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, জয়ের পর এল-সায়েদ

Reporter Name / ২ Time View
Update : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয় দাবি করার পর আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। নির্বাচনী প্রচারে কোনো কিছু অর্জনের প্রত্যাশা বোঝাতে বারবার ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতেন তিনি। জয়ের পর সেই কথার পরিবর্তে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন এই রাজনীতিক। তাঁর এ বক্তব্য নির্বাচনী সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি করে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে ডেট্রয়েটে সমর্থকদের সামনে দেওয়া বিজয়ী ভাষণে এল-সায়েদ বলেন, এত দিন নির্বাচনের ফল নিয়ে কথা বলার সময় তিনি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতেন। তবে এখন সেই কথাকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’তে পরিণত করতে পারেন। আরবি এই দুটি শব্দের অর্থ যথাক্রমে ‘আল্লাহ চাইলে’ এবং ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য’।

মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন এল-সায়েদ। অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে দায়িত্ব নেবেন তিনি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার নজির গড়েছেন মিশিগানের এই চিকিৎসক।

নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময়জুড়েই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজের অবস্থানের কারণে আলোচনায় ছিলেন এল-সায়েদ। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে তিনি দেশটির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছেন। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্সও এল-সায়েদের এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছিলেন।

বিজয়ী ভাষণেও ইসরায়েল প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এল-সায়েদ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের করের অর্থ দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হওয়া উচিত। বর্ণবাদী ব্যবস্থা, গণহত্যা কিংবা যুদ্ধের পেছনে দেশের অর্থ ব্যয় হোক, তা তাঁরা চান না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনাও করেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প একাধিকবার তাঁর নাম ভুলভাবে উচ্চারণ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে এল-সায়েদ বলেন, তাঁর নাম উচ্চারণ করতে ট্রাম্পের সমস্যা হতে পারে। তবে আগামী জানুয়ারিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তাঁকে শপথ পড়ানোর পর ট্রাম্প তাঁকে শুধু ‘সিনেটর’ বলে ডাকতে পারবেন।

এর আগে সোমবার মার্কিন টেলিভিশনের একটি জনপ্রিয় সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন এল-সায়েদ। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন জানালেও বাস্তবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বাধা তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাকারী পক্ষগুলোকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটন নিজের ঘোষিত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান নিচ্ছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যনীতি এবং ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

মিশিগানের নির্বাচনে এল-সায়েদের জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও নতুন করে সামনে আসতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca