• বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
স্বামী পাঠালেন রেমিট্যান্স, স্ত্রী পেলেন মোটরসাইকেল ধর্মপাশায় ভূমি অফিসের কর্মচারীর উপর হামলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে দীর্ঘদিন পর ২৫০ জন রোগীকে খাবার সরবরাহ শুরু হয়েছে| উলিপুরে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে তালা, ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ,দীর্ঘদিন ধরে অচল কার্যক্রম, হয়রানির অভিযোগ সেবা প্রার্থীদের রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ১৩ ঘন্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু নাচোল কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বৃত্তি প্রাপ্তদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ নওগাঁয় অবৈধ পলিথিনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা নাচোলে ৫জন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা যুক্তরাষ্ট্রে নিহত মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন বিজেপি কর্মীরা জয় শ্রী রাম বলায়, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ– ঘটনাস্থলে কেন্দ্র বাহিনী

ভোলাহাটের মাদ্রাসা ছাত্র রাজিব যখন ভ্যান চালক

Reporter Name / ২১৭ Time View
Update : শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১

ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভোলাহাটের এক গ্রামের ছেলে রাজিব । বিকেলে ময়ামারি মোড়ের উপর ভ্যানের প্যাডেলে পা রেখে যাত্রীর সন্ধান ছোট রাজিবের। বয়স সবে ১২ বছর। ৭ম শ্রেনীর ছাত্র। বাধ্য হয়ে ভ্যান নিয়ে নেমেছে রাস্তায়। দরিদ্র পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৪ জন। এক বোন বিয়ে হয়ে শ্বশুর বাড়ী। বাবা জিয়াউর রহমান (সুকলাল) মাজার ব্যাথা নিয়ে বাড়ীতে। কাজ কর্ম করতে পারছেন না। এদিকে মাথায় চেপে আছে সাপ্তাহিক ঋণের বোঝা । মা লকাডাউনের সময় করোনার জন্য কারো বাড়ীতে গিয়ে কাজ করতে পারছে না। একদিকে সংসার বাবার চিকিৎসার খরচ অন্যদিকে ঋণের টাকা যোগাড় করতে হয় ছোট রাজিবকে। যার কারণে বন্ধ থাকা বাবার ভ্যান নিয়ে আয়ের পথে নিজেই নেমে পড়েছে রাস্তায় রাজিব। ১৯ এপ্রিল ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে ইফতারের জন্য যে যার মত ছুটছে বাড়ীতে। কিন্তু ভোলাহাট উপজেলার ময়ামারী মোড়ে ভ্যানের উপর বসে বাম হাতে কম দামী মোবাইল দিয়ে যাত্রীর অপেক্ষা করতে করতে বাবার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিচ্ছে রাজিব।
ভ্যানের উপর বসে থাকা মিষ্টি চেহারার রাজিবের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করা হলে সে বলে, আমি ময়ামারী মাদ্রাসায় ৭ম শ্রেনীতে পড়া-লেখা করি। আমার বাড়ী ভোলাহাট উপজেলার পোল্লাডাংগা(উলাডাংগা) গ্রামে। আমার বাবা ভ্যাান চালিয়ে সংসার চালাতো। মাজার ব্যাথায় ভ্যান চালাতে পারে না। সংসারে ৪জন মানুষ। সাপ্তাহিক কিস্তি আছে। লকডাউনে মাদ্রাসা বন্ধ। তাই ভ্যান নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় বের হতে হয়। রাজিব আরো বলে, নিজের খরচের জন্য তেমন টাকা খরচ করি না। একদিকে বাবার চিকিৎসা খরচ আরেক দিকে সংসার। ছোট মানুষ তেমন কেউ ভ্যানে উঠতেও চায় না। ভ্যান চালাতে চালাতে অনেক সময় হাঁপায় যাই তাও বাধ্য হয়ে চালাই। লকডাউনের মধ্যে পড়া-লেখা বন্ধ । বাবা অসুস্থ্য , সাপ্তাহিক ঋণের বোঝা বাধ্য করেছে ভ্যান চালাতে বলে রাজিব জানায়। দিনে তেমন আয় হচ্ছে না। এদিকে লকডাউন তারপর রোজা। রাস্তায় লোকজন তেমন না থাকায় দিনে ১’শ টাকা করে আয় হয় বরে রাজিব জানায়।
রাজিবের বাবা জিয়াউর রহমান জানান, আমার ছোট ছেলেটা কষ্ট করে। সইতে না পারলেও করবার কিছুই যে নেই। ভ্যান না চালালে খাবার জুটবে না । আমার মাজার ব্যাথায় ভ্যান চালাতে পারি না। চিকিৎসা, ঋণের টাকা, সংসার সব কিছুরির ভার এখন একমাত্র ছোট ছেলে রাজিবের উপর পড়ে গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category