ঋত্বিক নয়ন,চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের গোয়াছি বাগান এলাকায় বিশেষায়িত বার্ন ইউনিটের নির্মাণকাজ এখন পুরোদমে চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পের মূল ভবনের কাঠামো দ্রুত দৃশ্যমান হচ্ছে। ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিতে যাতে পাহাড় ধসে হাসপাতালের ওপর না পড়ে, সে জন্য পাশের পাহাড়ের ‘সয়েল নেইলিং’ বা খাড়া পাহাড় কেটে ঢালু করার কাজ শেষ হয়েছে। আজ থেকেই সেখানে ঘাস লাগানোর কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।
কাজের অগ্রগতি ও লক্ষ্যমাত্রা
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অর্থ বরাদ্দের জটিলতা কাটিয়ে এখন কাজের গতি অনেক বেড়েছে।
বর্তমান অগ্রগতি: প্রকল্পের মোট কাজের ২৬ শতাংশ শেষ হয়েছে।
ছাদ ঢালাই: মূল ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হচ্ছে।
প্রকল্পের মেয়াদ: আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হলেও চীনা প্রকৌশলীদের লক্ষ্য আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা।
দুর্ভোগ কমবে রোগীদের
বর্তমানে চমেক হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে দগ্ধ রোগীদের কোনোমতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে প্রায়ই ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানোর প্রয়োজন পড়ে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রকল্প পরিচালক ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, “যন্ত্রপাতি ও শয্যা সংকটে আমরা গুরুতর রোগীদের এখানে পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে পারি না। নতুন এই ইউনিটটি চালু হলে রোগীদের আর ঢাকায় রেফার করতে হবে না।”
এক নজরে প্রকল্প
শয্যা সংখ্যা: ১৫০টি (১০টি আইসিইউ ও ২৫টি এইচডিইউ)।
বাজেট: ২৮৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা (চীনের অর্থায়ন ১৭৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা)।
অবকাঠামো: ৬ তলা ভবন, আধুনিক ল্যাব ও অপারেশন থিয়েটার।
২০২৪ সালের জুনে চীনের সাথে চূড়ান্ত নকশা অনুমোদন চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এই বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট এখন বাস্তবায়নের পথে।