• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন কপি ডাউনলোড করবেন যেভাবে ‘ফিরে আসব? কোথা থেকে?’ মাতৃত্বের পর কটাক্ষের জবাব ক্যাটরিনার তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার নিয়ে যা জানাল পুলিশ জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৯ অভিযান, ২৩৯ হুথি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করার দাবি মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ট্রাম্পের সঙ্গে এরদোয়ানের ফোনালাপ, আলোচনায় হরমুজ ও ইউক্রেন নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ধরে রাখার সমীকরণে এখন গুরুত্বপূর্ণ আরব দলগুলো গাজার শিশুদের সহায়তায় ১ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল তুললেন হামজা চৌধুরী ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড

ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড

Reporter Name / ২০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কিংবা বলপ্রয়োগের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলেরও বিধান রয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)কে বলেন, আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে কমিশন। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

সিইসি বলেন, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনের কাছে এলে তা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ করা স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় নির্বাচনী অপরাধের শাস্তি, প্রার্থিতা বাতিল এবং অনিয়মপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করার ক্ষমতা উল্লেখ করা হয়েছে। বিধিমালার ৮০(ক) অনুযায়ী, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো, আঘাত করা কিংবা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একইভাবে নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকের কাজে বাধা দেওয়া, তাঁদের শারীরিক ক্ষতি করা কিংবা দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম নষ্ট করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না দেওয়া কিংবা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে বিধিমালায়। কোনো রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে যে চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কোনো প্রার্থী কিংবা তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন, তাহলে কমিশন তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে।

তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট অথবা তাঁদের নির্দেশে বা সম্মতিতে অন্য কেউ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন, তাহলে লিখিত আদেশের মাধ্যমে ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা যাবে।

ভোটকেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল গুরুতরভাবে প্রভাবিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করার ক্ষমতাও রয়েছে কমিশনের। প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের পর কমিশন ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ দিতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ন্যায়সংগত মনে হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দেওয়া যাবে।

সিইসি আরও জানান, নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ। ভোটার স্লিপসহ নির্বাচনী প্রচারে কোন ধরনের উপকরণ কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, তা আচরণবিধিতে নির্ধারিত রয়েছে। এসব বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে কমিশন। সিইসি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করা হবে। নির্বাচনে পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি থাকবে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ভোটাররা যাতে ভয়ভীতি ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, ভোট দিতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে কমিশন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। সাধারণত ভোটগ্রহণের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। প্রতি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিইসি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca