• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন কপি ডাউনলোড করবেন যেভাবে ‘ফিরে আসব? কোথা থেকে?’ মাতৃত্বের পর কটাক্ষের জবাব ক্যাটরিনার তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার নিয়ে যা জানাল পুলিশ জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৯ অভিযান, ২৩৯ হুথি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করার দাবি মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ট্রাম্পের সঙ্গে এরদোয়ানের ফোনালাপ, আলোচনায় হরমুজ ও ইউক্রেন নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ধরে রাখার সমীকরণে এখন গুরুত্বপূর্ণ আরব দলগুলো গাজার শিশুদের সহায়তায় ১ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল তুললেন হামজা চৌধুরী ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড

নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ধরে রাখার সমীকরণে এখন গুরুত্বপূর্ণ আরব দলগুলো

Reporter Name / ১২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো পক্ষ। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু প্রাথমিক ফলের হিসাবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি এবং গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেতে পারে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো, যারা সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রাথমিক ফলের ভিত্তিতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা এবার রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তাদের সমর্থন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখা কিংবা নতুন সরকার গঠনের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আরব দলগুলোর অবস্থান এবং অন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার ধরনই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে।

এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড আরব লিস্ট—রা’আম সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। প্রাথমিক হিসাবে জয়েন্ট লিস্টের সম্ভাব্য আসন ১২টি এবং রা’আমের সাতটি। এই হিসাব কার্যকর হলে নেসেটে তাদের প্রতিনিধিত্ব আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

তবে আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়া সহজ নয়। নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটের প্রধান শরিকদের মধ্যে অতি-অর্থোডক্স ও উগ্র ডানপন্থী দল রয়েছে। আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে এসব শরিকের আপত্তি রয়েছে। ফলে নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা করলে নিজের জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়েও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন।

অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরও আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে একমত নয়। গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। আরব দলগুলোর সমর্থন যুক্ত হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারের সময় বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

আরব দলগুলোর অবস্থানও এক নয়। জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিনের দল জানিয়েছে, গাজা ও লেবানন বিষয়ে বিরোধী শিবিরের অবস্থানের কারণে তারা সরকারে সরাসরি যোগ না দিয়ে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। অন্যদিকে, রা’আমের নেতা মনসুর আব্বাস সরকারে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন। ফলে দুই দলের মধ্যে সমন্বয় এবং তাদের রাজনৈতিক শর্ত সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে আরব রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় পর্যায়ের সরকার গঠনের আলোচনায় সীমিত প্রভাব রাখতে পেরেছে। তবে এবার তাদের সম্ভাব্য ১৯টি আসন দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেওয়ার মতো অবস্থান তৈরি করেছে।

আরব দলগুলোর রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে আরব অধ্যুষিত এলাকায় অপরাধ ও সহিংসতা কমানো, অবকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন সমস্যা সমাধান, সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা। রা’আম বাস্তবভিত্তিক রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দেয়। অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্ট ফিলিস্তিন প্রশ্ন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারত্ব এবং আরব নাগরিকদের অধিকারসংক্রান্ত নীতিগত দাবিকে গুরুত্ব দেয়।

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে তাঁকে নিজের জোটের শরিকদের ঐক্য বজায় রাখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

দুই পক্ষের কেউই সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে সরকার গঠনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কিংবা নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এসবই সম্ভাব্য পরিস্থিতি; চূড়ান্ত ফল ও দলগুলোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের আগে কোনো পক্ষের সরকার গঠন নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca