বাগমারায় রামরামা-কামারখালী সুফলভোগী সমিতির সফলতা

Rubel Rubel

Islam

প্রকাশিত: ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২১

মোঃ মিজানুর রহমান,(বাগমারা প্রতিনিধি):
জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ও আনন্দমূখর পরিবেশে আজ “ রাজশাহী জেলা বাগমারা রামরামা-কামারখালী সুফলভোগী মৎস্য অভয়াশ্রম সমিতির” মাধ্যমে এলাকার গরীব দুখী মানুষের মধ্যে মাছ বিতরণ করা হলো।
এলাকাটি রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব শেষ প্রান্তে রামরামা ও কামারখালী নামক দুটি গ্রামে অবস্থিত। সমিতির সভাপতি জনাব মোঃ মোজাহার আলী মন্ডল সাহেব ‘রাজশাহী টাইমস‘কে জানান, নদীর উত্তর পাড়ে রামরামা ও কামারখালী ও নদীর দক্ষিণ পাড়ে পুঠিয়া উপজেলাধীন গোবিন্দ পাড়া গ্রাম। এই গ্রামগুলির ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া বারনই নদীতে বাগমারা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও মৎস্য অফিসার মহোদয়ের উদ্যোগে এই সমিতি গঠিত হয়। মৎস্য অফিসার মহোদয় ২৫/১১/২০২০ খ্রিঃ নিজে উপস্থিত থেকে নদীতে ডাল-পালা ফেলে সমিতির কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন। উল্লেখ্য যে, এই নদীর দৈর্ঘ্য বরাবর ৪/৫ কিলোমিটার দূরত্ব জায়গা দীর্ঘ ২০/২৫ বছর ধরে রামরামা গ্রামের মোঃ মহন মন্ডলের পরিবার এককভাবে অবৈধভাবে নদীতে সুতি জাল দিয়ে ডাল-পালা ফেলে এবং বিভিন্ন পন্থায় মাছ ধরার কৌশল অবলম্বন করে জনগণের নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত করে নদী দখল করে আসছিলো।

সুতি জাল দিয়ে মাছ ধরার জন্য নদীতে কৃত্রিমভাবে স্রোত সৃষ্টি করতে হয়। যার ফলে নদী পাড়ের জমি, বিশেষ করে নদীর পাড়ে বসবাসকারী জনগণের বাড়িঘর, গাছ-পালা নদীর কৃত্রিম স্রোতে ভেঙ্গে বিলীন হয়ে গেছে এবং যেগুলি কোন রকমে টিকে আছে তা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে! এ ব্যাপারে মহন মন্ডলকে বার বার জানালে বিষয়টি তিনি কোনো আমলে নেয়নি!

তাই বিষয়টি জনগণ কর্তৃপক্ষকে জানালে, সে পরিবার যেন অবৈধভাবে দখলের মাধ্যমে জনগণের কোন ক্ষতিসাধন করতে না পারে, সেজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ এখানে একটি মৎস্য অভয়াশ্রম তৈরি করে দেন, যেখানে মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ। অতঃপর কর্তৃপক্ষ অভয়াশ্রমের পাশে/বর্ধিতাংশে সরকারি শর্তাধীনে এই “রামরামা-কামারখালী সুফলভোগী মৎস্য অভয়াশ্রম সমিতি” নামকরণ করে একটি সমিতি গঠন করে দেন, এবং বিশেষ শর্তে শুধু খরা মৌসুমে মাছ ধরার অনুমতি দেন। তিনি আরও জানান, নদীর উভয় পাড়ের উল্লেখিত তিনটি গ্রামের প্রতি পরিবারের এক জন করে সদস্য নিয়ে সমিতির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৩০ জন, এবং এলাকার নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির যে কোন ব্যক্তি যে কোন সময় সমিতিকে ভর্তি হবার সুযোগ আছে। এই অবস্থায় অবৈধ দখলকারী পরিবারের, দুই যুগ ধরে দখলকৃত নদী হাত-ছাড়া হওয়ার কারণে মোঃ মহন মন্ডল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং সমিতির অংশে জোর করে মাছ ধরার হুমকি ও পাঁয়তারা করে, কিন্তু সরকারি কর্তৃপক্ষ/প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তৎপরতার কারণে তার সকল প্রচেষ্টা বিফলে যায়। তার শেষ প্রচেষ্টা মিথ্যাচারের মাধ্যমে সমিতির ভাবমূর্তি নষ্ট করার লক্ষ্যে তথাকথিত পকেট সাংবাদিক দিয়ে পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক অগ্রযাত্রা’ Channel-S সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এই মিথ্যাচার ও ভুয়া সংবাদকে সভাপতি সাহেব ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেন ও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। মাছ বিতরণ সম্পর্কীয় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এই নদী জনগণের, তাই সমিতিতে কেউ সদস্য হোক বা না হোক, প্রতি বছর এভাবেই সমিতি কর্তৃক, সমিতির সদস্য ছাড়াও এলাকার গরিব-অসহায় মানুষদের মাঝে মাছ বিতরণ করা হবে।”
এছাড়া মাছ বিতরণের সময় তিনি অসহায়দের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, “এই মাছ বিতরণ কারোর প্রতি কোনো ধরণের দয়া বা অনুদান নয়, এটা তোমাদেরই অধিকার, যা পূর্বে দখলদারদের দ্বারা দুই যুগ ধরে হরণ করা হয়ে আসছিলো!” মাছ বিতরণ শেষে অসহায় মানুষেরা অনেকেই আপ্লূত হয়ে জানান, “পূর্বে কখনো তাদের মাঝে এভাবে মাছ বিতরণ করা হয় নাই, তারা “রামরামা-কামারখালী সুফলভোগী সমিতি” কর্তৃক মাছ পেয়ে অনেক খুশি এবং আশাবাদী যে, সামনের দিনেও তারা এভাবেই ‘সুফলভোগী সমিতি’ কর্তৃক সুফল ভোগ করবে।

পরিশেষে সভাপতি সাহেব সুষ্ঠুভাবে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।