• মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ১২:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত সম্পত্তি বেদখলে আপনার করণীয়, সম্পত্তি বেদখল কি? ভোলাহাটে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো অনিয়মে ভরপুর; অতিষ্ঠ অনলাইন ব্যবসায়ীরা কুষ্টিয়ায় ট্রিপল মার্ডার, দায় স্বীকার করে এএসআই সৌমেনের জবানবন্দি আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান ৫ দিন যাবত নিখোঁজ ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ! চার মাসে অভিযুক্ত কে আটক করতে পারেনি গোমস্তাপুর থানা পুলিশ ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ! চার মাসে অভিযুক্ত কে আটক করতে পারেনি গোমস্তাপুর থানা পুলিশ অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত মাগুরায় খন্ডিত লাশের মাথা ও পা উদ্ধার, আটক-১ বরগুনার আমতলীতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান : জরিমানা ৬ হাজার টাকা।



গোমস্তাপুরে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বাড়িতে এখনও উঠেনি ১৮ পরিবার

Reporter Name / ২ Time View
Update : রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১



গোমস্তাপুরে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বাড়িতে এখনও উঠেনি ১৮ পরিবার

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত মুজিব বর্ষে একটি পরিবারও গৃহহীন থাকবে না এ স্লোগানকে সামনে রেখে কাজ করে চলেছে সরকার। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রথম দফায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ৯৫টি বাড়ি সরকার নির্মান করে দেয়। ২৩ জানুয়ারি শনিবার সকালে সারাদেশে এসব বাড়ি গুলো হতদরিদ্রের মাঝে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘরগুলো হস্থান্তরের প্রায় ২মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও গোমস্তাপুর ইউপি’র নিমতলা কাঠাল গ্রামে ৪টি, রহনপুর ইউনিয়নের ৫টি, চৌডালা ইউনিয়নের ৬টি, আলীনগর ইউনিয়নের ৩টি পরিবার মোট ১৮টি পরিবার এখনও উঠেনি সে সব ঘরে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, যাদের বাড়ি দেওয়া হয়েছে তাদের নিজস্ব বাড়ি থাকায় সেসব বাড়ি ছেড়ে তারা বিনামূল্যে পাওয়া বাড়িতে যেতে চাচ্ছে না।
উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত এসব বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এসব বাড়িঘরে কোন লোকজনের বসবাস নেই। খোলা মাঠ ও রাস্তার ধারে তালাবদ্ধ হয়ে অযতœ, অবহেলায় হলুদ রংয়ের এসব বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ১৮টি ঘর সম্পূর্ন রুপে নির্মিত হলেও বাড়িগুলোতে কোন লোকজনেরই বসবাস নেই। আর কয়েকটি ঘরে একজন করে রাতে থাকলেও দিনের বেলায় তারা কেও থাকে না।
ঘর হস্তান্তরের দু’মাস হয়ে গেলেও বাড়িতে না উঠার কারণ জানতে চাইলে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সুবিধাভোগি জানান, প্রধানমন্ত্রী এসব ঘর আমাদের বিনামূল্যে দিয়েছে। তাতে আমরা সন্তুষ্ট। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান এসব ঘরের চাবি, দলিল হস্থান্তরও করেছে আমাদের কাছে। কিন্তু এসব বাড়ি এখনও বসবাস করার উপযোগী হয়নি। মাঠের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় নির্মিত এসব বাড়িতে আছে খাবার পানির সংকট ও যোগাযোগের নেই তেমন কোন ব্যবস্থা। রাস্তার ধারে বসবাসের অনুপযোগী যায়গায় আমাদেরকে বাড়ি দিয়েছে। যার কারনে সার্বিক দিক বিবেচনা করে এসব বাড়িতে এখনও উঠা হয়নি।
কথা হয় রহনপুর ইউনিয়নের আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর বাড়ি পাওয়া সুবিধাভোগী মনিরুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, আমার বাড়ি ও জমি থাকা সত্বেও আমি বাড়ি পেয়েছি। আমার দুই কাঠা জমি ও একটি বাড়ি আছে। আমি এখনো বাড়িতে উঠিনি। তবে আমার ওই বাড়িতে মেয়ে জামাই থাকে।

এনিয়ে পার্বতীপুর ইউনিয়নের সুবিধাভোগী একজন বয়স্ক নারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব ঘরে না উঠার কারণ হচ্ছে আমাদের পানি খাওয়ার যখন সমস্যা হচ্ছিল, তখন আমরা ইউএনও’র কাছে গিয়েছিলাম, তিনি আমাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন, যে বাড়ি পেয়েছ তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। আমি বললুম আমি এতো কষ্ট করে থাকতে পারবো না। আমি বাড়ি ছেড়ে দেবো, আপনি আমাকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেন।
এ বিষয়ে চৌডালা ইউপির উদয়নগর চরে বাড়ি পাওয়া সুবিধাভোগী আনোয়ারা বেগম জানান, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বাড়ি দিয়েছে। এইসব বাড়িগুলোতে খাবার পানি, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেক সমস্যা থাকায় অনেকেই আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। আমাদের যাওয়ার রাস্তাটিও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে পাশ^বর্তী জমিওয়ালার কারণে। তবে ইদানিং ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত সাবমার্সিবুল পাম্প এর জন্য সরকারী ৭ হাজার ৫০টাকা করে নেয়া হয়েছে, ফলে হয়ত খুব শীঘ্রই পানির ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

রহনপুর ইউনিয়নের রতনপুরে সুবিধাভোগী কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রেজিঃ অফিস বকসিস নেওয়ার কথা বলে ৭’শ’ টাকা করে ১৩টি বাড়ির মালিকের কাছ থেকে নিয়েছে। কথা হয় গোমস্তাপুর ইউনিয়নের দোসিমনী কাঠাল গ্রামের সুবিধাভোগী জোবেদা বেগম এর সাথে, তিনি বলেন, আমরা বাড়ি পেয়েছি তাতে খুশি হয়েছি কিন্তু এখন আমরা খুব কষ্টে আছি। এখনো পর্যন্ত আমরা পানি খাওয়ার কোন ব্যবস্থা, বিদ্যুতের ব্যবস্থা পাইনি। নেই রাস্তার তেমন ব্যবস্থা, আর বৃষ্টির পানি হলে আমরা তলিয়ে যাবো, যেখানে ড্রেন নির্মাণ করার কথা তবু সেটা হয়নি।
বাড়িতে না উঠার কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, মূলতঃ পানীয়জল, বিদ্যুত, রাস্তা, হাটবাজার ইত্যাদির অভাব সর্বপরি বসবাস উপযোগি নয় এমন জায়গায় বাড়িগুলো নির্মিত হওয়া দায়ী।
গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ধরণের অভিযোগ পেলে খুব দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।




আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category





%d bloggers like this: