নাগরপুর(টাংগাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের কেদারপুর বাজারের এক ঔষধ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বেশী মূল্যে নাপা ট্যাবলেট বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।
খবর পেয়ে সরেজমিনে বিষয়টি জানতে গেলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। উপজেলার কেদারপুর বাজারে অবস্থিত খান মেডিকেল হল ফার্মেসীতে নাপা ও নাপা এক্সট্রা ট্যাবলেট নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বেশী দামে বিক্রয় করছেন এর প্রোপাইটর মোঃ রুবেল খান। যেখানে এক পাতা নাপা ট্যাবলেটের মূল্য ০৮ টাকা সেখানে ফার্মেসী মালিক রুবেল খান এক পাতা ১৫ টাকা দরে এবং এক পাতা নাপা এক্সট্রা ট্যাবলেট ৩০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। অতিরিক্ত দামে নাপা ট্যাবলেট বিক্রির কারন বিষয়ে জানতে চাইলে ফার্মেসী মালিক মোঃ রুবেল খান বলেন,নাপা ট্যাবলেটের সাপ্লাই কম।আমি অতিরিক্ত মূল্যে নাপা ট্যাবলেট কিনেছি তাই বেশী দামে বিক্রয় করছি।
এসময় তার ফার্মেসীতে চায়ের আড্ডা চলছিলো যেন করোনা বলে তার দোকানে কিছুই নেই,কারও মুখে ছিলনা মাস্ক।লোকজনের সমাগম সম্পর্কে জানতে চাইলে মোঃ রুবেল খান বলেন এতে সমস্যা নেই।
ভূক্তভোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঔষধের ক্রেতা সাংবাদিকদের জানান, আমি খান ফার্মেসী থেকে এক পাতা নাপা ট্যাবলেট ও এক পাতা নাপা এক্সট্রা ট্যাবলেট ক্রয় করতে গেলে ফার্মেসী মালিক রুবেল আমার কাছ থেকে ঔষধের অতিরিক্ত মূল্য বাবদ ৫৫ টাকা রাখেন। আমি ঔষধের দাম বেশী রাখার কারন জানতে চাইলে সে বলে দাম বেরেছে।কিন্তু একই ঔষধ আমি অন্য ফার্মেসী থেকে ক্রয় করলে সেখানে তার দাম রাখে ৪০ টাকা রাখে।
এ বিষয়ে কেদারপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি মোজাফ্ফর আহমেদ বলেন, এই করোনার সময় জনগন খুব সমস্যায় আছে । ঔষধের দাম বেশী নেয়া ঠিক হয় নি।
এ বিষয়ে কেদারপুর বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সেলীম বলেন, খান ফার্মেসির মালিক রুবেলের বেশী দামে ঔষধ বিক্রি করার বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। আমি ঐ ঔষধ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নাগরপুর উপজেলা ড্রাগিস্ট ও ক্যামিস্ট সমিতির সভাপতি মোশাররফ হোসেন জানান,বাজারে নাপা ট্যাবলেটের কিছুটা সংকট আছে । এই সুযোগে কিছু অসাধু ঔষধ ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে নাপা টাবলেট বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টা খুবই দুঃখ জনক।তবে অতিরিক্ত দামে ঔষধ বিক্রি করা ঠিক না।
কেদারপুর বাজার এর ঔষধ ব্যবসায়ী ও নাগরপুর উপজেলা ড্রাগিস্ট এণ্ড ক্যামিষ্ট সমিতির সদস্য মোঃ বাদল হোসেন বলেন, ঔষধ এর দাম বেশী রাখা উচিৎ নয়।
স্থানীয় সাংসদ(টাঙ্গাইল-৬)আহসানুল ইসলাম টিটুর মোকনা ইউনিয়ন প্রতিনিধি নাজমুল হক নান্নু সাহেব বিষয়টি জানার পর সে বলে আমি রুবেলের দোকানের নিয়মিত ঔষধের ক্রেতা। বিষয়টি সমাধান করার জন্য উপস্থিত বনিক সমিতির সকল সদস্যদের সামনে ফোন দিলে সে বলে আমি বেশিদামে ঔষধ বিক্রি করছি এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বলে যা পারে করুক,উল্টো পরের দিন অনেকের কাছেই বলে বেড়ান নান্নু আমার কাছে টাকা দাবি করেন।
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রোকনুজ্জামান খান সাংবাদিকদের জানান,ঔষধের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা অপরাধ। অভিযোগ পেলে ঐ ফার্মেসী মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত ই জাহান জানান, কোন ঔষধ ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মূল্যে ঔষধ বিক্রয় করলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।