• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
‎সুন্দরবনে অবমুক্ত বাঘিনীর রহস্যময় অন্তর্ধান: ৪০টি ক্যামেরায় মিলছে না অস্তিত্ব ‎ ‎ নাচোলে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ এর উদ্বোধন নাচোলে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত নাচোল উপজেলা আ,লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আটক ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ পেলেন ইউপি সদস্য নাচোলে মাদক, বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং বিষয়ক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত মোবাইল অ্যাপসে মুরগির খামার নিয়ন্ত্রণ নাচোলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নাচোলে নতুন কুড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর দেশ সেরা শামিমকে সংবর্ধনা নাচোলে ডাসকো’র উদ্যোগে ৩২তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত

ত্রিশালে সোহেল-রওশন দম্পতি ভাইরাল হওয়ার পরিচয় ভিন্ন,  সে গোমস্তাপুরের বকুল

Reporter Name / ৩৬৯ Time View
Update : শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

ত্রিশালে সোহেল-রওশন দম্পতি ভাইরাল হওয়ার পরিচয় ভিন্ন,  সে গোমস্তাপুরের বকুল
গোমস্তাপুর(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ময়মনসিংহের ত্রিশালে সোহেল ও তাঁর প্রতিবন্ধী স্ত্রী রওশন আরার ভালোবাসার গল্প শিরোনামে খবরটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে পড়ে। গত ১৪ ফেব্রয়ারী ভালোবাসা দিবসে খবরটি প্রচারিত হয়েছে । প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে ওই দম্পতির খোঁজ খবর নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়। ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আক্তারুজ্জামান ওই দম্পতির খোঁজ খবর ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত খবর দেখে সোহেলকে চিনে ফেলে জন্মস্থানের এলাকাবাসী । ছবি দেখে দাবি করে তিনি মোখলেসুর রহমান বকুল সোহেল না। পরে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে অবহিত করে দেখানো হলে তাঁরাও নিশ্চিত করেছেন।
 এলাকাবাসী ও পরিবার জানায়, ভাইরাল হওয়া সোহেল হচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলা বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। সে সন্তোষপুর এলাকায় চা বিক্রেতা ছিলেন। সোহেল নিজেকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকার বাসিন্দা দাবি করে বক্তব্য দেন। তবে সোহেল পরিচয়ে গণমাধ্যমে তাঁর কিছু বক্তব্য নিয়ে এলাকায় বইছে নানা গুঞ্জন ও সমালোচনা ।
এলাকাবাসী জানায়, মোখলেসুর রহমান বকুল ( সোহেল পরিচয়) ছোট বেলা থেকে সন্তোষপুর বাজার এলাকায় চায়ের দোকান করত। সবার সাথে মিষ্টিসূরে কথা বলতেন। তাঁরা জানায় ২০বছর আগে একই এলাকার সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা সাজ্জাদ আলীর মেয়ে শুরাতন কে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাঁরা সুখের সংসার করছিলেন। কিছুদিন পর অভাব অনটনের দেখা দেয় সংসারে। বিভিন্ন জনের কাছে ধার-দেনা করতে থাকে। বকুল ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়েন। কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ এলাকা থেকে লাপাত্তা হয়ে যান। ১৫ বছর পর টিভিতে তাঁকে দেখে এলাকাবাসি বিস্মিত হয়ে যান। তাঁর পূর্বের ও বর্তমানের চিত্র নিয়ে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। সন্তোষপুর এলাকায় বকুলের স্ত্রীসহ তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। চায়ের দোকানটি বর্তমানে এখনো রয়েছে। তাঁর ছেলেরা সেটি করছেন।
ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া ছোট ছেলে নীরব আলী বলেন, সে যখন পেটে ছিল তখন তাঁর বাবা এলাকা থেকে চলে যান। কখনও তাঁকে দেখিনি। বাবার স্নেহ ভালোবাসা পায়নি। শুধু মার কাছে গল্প শুনেছি। আজ টিভি ও মোবাইল ফোনে দেখছি এটা আমার বাবা। তাঁর বাবা বেশিদূর লেখাপড়া করেননি। অথচ তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেছেন বলে বক্তব্য দিচ্ছেন। আপনারা সঠিক তথ্য তুলে ধরেন।
বড় ছেলে শিহাব জানান, ছোটবেলায় মা ও আমাদের রেখে চলে যান তাঁর বাবা। কখন খোঁজ নেননি। বাবা চলে যাওয়ার পর অসহায়ত্ব হয়ে পড়ে মা। অনেক কস্ট করে তাঁদের বড় করেছেন। মা আমাদের একমাত্র বেঁচে থাকার অবলম্বন। ওই বাজারে চায়ের দোকান করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। বোনটির বিয়ে হয়ে গেছে। তিন ভাই মাকে নিয়ে ভাল আছি। আল্লাহ আমাদের ভাল রেখেছেন। তিনিও টিভিতে দেখেছেন।
ওই এলাকার ইমাম নগরের বাসিন্দা বয়োজ্যেষ্ঠ নজরুল ইসলাম বলেন, টিভি ও মোবাইল ফোনে তাঁকে দেখে চিনতে পারি সে সোহেল না  চা দোকানী বকুল। ঋনগ্রস্থ হয়ে সে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। তিনি দাবি করছেন, বকুল এলাকা ছাড়ার আগে তাঁর ২০ বস্তা ও বোনের ২০ মণ চিকন ধান নিয়ে ফেরত দেয়নি। তিনি বলেন বিপর্যস্ত এ পরিবারটিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যেন নজর দেয়।
জেলা পরিষদের সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, বকুলের চায়ের দোকানে চা খাওয়াসহ গল্প-আড্ডা দিয়েছি। তাঁকে ভাল ছেলে বলে চিনতাম। দীর্ঘদিন নিরুদ্দেশ হওয়ার পর তাঁকে টিভিতে দেখলাম। আসলে সোহেল বলে দাবি করা যুবকটি বকুল বলে দাবি করেন।
 স্ত্রী শুরাতন বেগম বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে ঋণগ্রস্থের কারণে তাঁর স্বামী তাঁদের রেখে চলে যান। যোগাযোগের জন্য একটা মোবাইল নাম্বার দিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর খোঁজ পাননি ও সেও খোঁজ রাখেন নি। খেয়ে না খেয়ে তিন ছেলে ও এক মেয়েকে বড় করেছি। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, সে দূরে থাকলেই ভাল। তবে তিনি টিভিতে দেখে বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত হয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca