• সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ২০ নারীকে সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ প্রদান টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে নেমে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু ভালোবাসার বিয়ের আট মাস পার হতে না হতে স্বামী রহস্যজনক মৃত্যু স্ত্রী পলাতক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল প্রেমের টানে চীন থেকে নবীনগরে: বিয়ের আশায় তরুণীর বাড়িতে চীনা যুবক, এলাকায় চাঞ্চল্য অবৈধভাবে সার পাচারকালে হাতেনাতে আটক; ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন: বালু ব্যবসায়ীকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা ভাগ্য বদলাতে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নিখোঁজ টাঙ্গাইলের শহিদুল স্টার্টআপ সাইন্স প্রজেক্ট নাচোলের এশিয়ান স্কুল জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন: জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত নাচোলে স্মার্ট ফোনের অপব্যবহার, মাদক, কিশোর অপরাধ ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময়সভা

বাগমারায় শিক্ষকের পরিবারকে একঘরে করে বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ

Reporter Name / ২৬৬ Time View
Update : শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০

(বাগমারা প্রতিনিধি)ঃ
রাজশাহীর বাগমারার একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের পরিবারকে একঘরে করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবেশীদের চলাচলের পর্যাপ্ত রাস্তা না রাখার অভিযোগ এনে পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পাশাপাশি ওই শিক্ষকের বাড়ির তিন পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হলেন উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের বইকুড়ি গ্রামের গোলাম রহমান (৭১)। তাঁর ভাষ্য, সম্প্রতি তিনি নতুন বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। এর ফলে তাঁরসহ প্রতিবেশীদের চলাচলের রাস্তাটি সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। এ জন্য তিনি বাড়ির অন্যপাশে তাঁর জমিতেই আরেকটি রাস্তা তৈরি করেন চলাচলের জন্য। এতে গ্রামের কিছু মানুষ ক্ষুব্ধ হন। তাঁরা আগের রাস্তাটি আরও প্রশস্ত করার দাবি জানান। এ নিয়ে গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধের সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গ্রামের কয়েকজন বলেন, গত বুধবার ওই শিক্ষকের বাড়ির তিনপাশে বাঁশের বেড়া নির্মাণ করে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু তা–ই নয়, ওই রাতে পাড়ার কয়েকজন বৈঠক বসিয়ে শিক্ষক পরিবারকে একঘরে করে রাখেন। গ্রামের মাতব্বর আকরাম হোসেন, রহিম উদ্দিন, মুনসুর রহমান ও এনামুল হক ওই বৈঠকে ছিলেন। বৈঠকে শিক্ষকের পরিবারের সঙ্গে কাউকে কথা বলতে ও মিশতে মানা করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের কয়েকজন বলেন, পরিবারটির সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তা অমানবিক। সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন পরিবারটিকে এখন একঘরে করে রেখে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। এই দম্পতির ছেলেমেয়েরা সবাই উচ্চশিক্ষিত। বিয়ের পর মেয়েরা স্বামীর বাড়িতে এবং এক ছেলে চাকরির সুবাদে বাইরে থাকেন।

গোলাম রহমানের বড় মেয়ে জেসমিন রহমান ঘটনা জানার পর ঢাকা থেকে এলাকায় এসে মা–বাবার সঙ্গে আছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সভ্য সমাজে এ রকম কাজ হয়, তা ভাবতে অবাক লাগছে। সামান্য বিষয় নিয়ে লোকজন এত ভয়ংকর হতে পারে, তিনি তা ভাবতে পারেননি। তাঁর মা–বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে তিনি জানান।

শিক্ষক গোলাম রহমান বলেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। দুজনেই অবসরে আছেন। বাড়িতে তাঁরা দুজনই থাকেন। এই সুযোগে প্রতিবেশীরা তাঁদের ওপর নির্যাতন করছেন।

মাতব্বর আকরাম হোসেন বাঁশের বেড়া দিয়ে পরিবারটির চলাচলের পথ বন্ধ ও একঘরে করে রাখার অভিযোগ স্বীকার করে বলেছেন, ওই শিক্ষক তাঁদের চলাচলের পথ দেননি। এ জন্য তাঁরা বসে এটি করেছেন। কাজটি করা ঠিক হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিক হয়নি। তবে এর বিকল্প কিছু তাঁরা দেখছেন না। লোকজন বসেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। কেউ অভিযোগও করেননি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category