• সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ২০ নারীকে সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ প্রদান টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে নেমে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু ভালোবাসার বিয়ের আট মাস পার হতে না হতে স্বামী রহস্যজনক মৃত্যু স্ত্রী পলাতক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল প্রেমের টানে চীন থেকে নবীনগরে: বিয়ের আশায় তরুণীর বাড়িতে চীনা যুবক, এলাকায় চাঞ্চল্য অবৈধভাবে সার পাচারকালে হাতেনাতে আটক; ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন: বালু ব্যবসায়ীকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা ভাগ্য বদলাতে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নিখোঁজ টাঙ্গাইলের শহিদুল স্টার্টআপ সাইন্স প্রজেক্ট নাচোলের এশিয়ান স্কুল জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন: জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত নাচোলে স্মার্ট ফোনের অপব্যবহার, মাদক, কিশোর অপরাধ ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময়সভা

ছুটির নামে সরকারি টাকা আত্মসাত, প্রতিরোধে অনলাইন ছুটি সিস্টেম এবং লোকেশন ট্র্যাকিং চালু প্রয়োজন

Reporter Name / ১৮৭ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫

মোঃ রফিকুল ইসলাম,
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

সরকারি দপ্তরগুলোতে ছুটির নামে জনভোগান্তি, আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি টাকা আত্মসাত রোধে অনলাইন ছুটি আবেদন পদ্ধতি ও লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম চালুর দাবি উঠেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দপ্তরগুলোতে বেশিরভাগ সময় ছুটির হিসাব গোপন রাখা হয় বা কাগজপত্রে হেরফের করে একই তারিখে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা ধারাবাহিকভাবে এক জনের পর আরেকজন ছুটির অনুমোদন পান। আবার কেউ মৌখিকভাবে ছুটি নেন, কিন্তু তা রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ হয় না। অনেক ক্ষেত্রে লিখিত দরখাস্ত দাখিল করা হলেও তা উপর দপ্তরে পাঠানো হয় না; বরং ছুটি কাটানোর পর দরখাস্তটি ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়। ফলে মাস শেষে দেখা যায়, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটি কাটাননি, অথচ সবাই সম্পূর্ণ বেতন পাচ্ছেন।

তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অনেক সময় অফিস প্রধান নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ ধরনের সুবিধা দিয়ে থাকেন। এতে সরকারি কোটি কোটি টাকা বিনা পারিশ্রমিকে বিতরণ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় অভিযোগ করার মতো পরিবেশও থাকে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিটি সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের iBAS++ (Integrated Budget and Accounting System Plus) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনলাইন ছুটি আবেদন বাধ্যতামূলক করা উচিত। এই প্ল্যাটফর্মে ছুটি অনুমোদনের পর তা কোনোভাবেই মুছে ফেলা বা ডিলিট করা যায় না। ডিলিট করলেও তা ডাটাবেজে থাকবে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নৈমিত্তিক ছুটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে।

একইসঙ্গে তারা বলেন, লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা হলে অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে অনলাইনে ছুটি নেয়ার পাশাপাশি কর্মস্থলে অবস্থানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, অফিসের ভেতরে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড থাকবে। ফলে কেউ মৌখিক ছুটি নিয়ে অকারণে অনুপস্থিত থাকতে পারবে না।

ছুটি ও উপস্থিতি ব্যবস্থাপনাকে অনলাইনে নিয়ে আসা হলে একদিকে সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে অফিস কার্যক্রমে গতি আসবে। পাশাপাশি নাগরিকরাও দ্রুত সেবা পাবেন।

সচেতন মহলের মন্তব্য, সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অনলাইন ছুটি ব্যবস্থাপনা এবং লোকেশন ট্র্যাকিং চালু করাই সময়ের দাবি। তবে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যেহেতু নীতি-নির্ধারক দপ্তরের প্রধানরাই তুলনামূলক বেশি ছুটি কাটান এবং বেশি সুবিধা ভোগ করেন, তাই তারাই এ প্রক্রিয়া চালু করতে প্রধান বাধা সৃষ্টি করতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category