• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে নেমে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু ভালোবাসার বিয়ের আট মাস পার হতে না হতে স্বামী রহস্যজনক মৃত্যু স্ত্রী পলাতক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল প্রেমের টানে চীন থেকে নবীনগরে: বিয়ের আশায় তরুণীর বাড়িতে চীনা যুবক, এলাকায় চাঞ্চল্য অবৈধভাবে সার পাচারকালে হাতেনাতে আটক; ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন: বালু ব্যবসায়ীকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা ভাগ্য বদলাতে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নিখোঁজ টাঙ্গাইলের শহিদুল স্টার্টআপ সাইন্স প্রজেক্ট নাচোলের এশিয়ান স্কুল জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন: জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত নাচোলে স্মার্ট ফোনের অপব্যবহার, মাদক, কিশোর অপরাধ ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময়সভা আবারও ঠাকুরগাঁও জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত মোঃ খাইরুল ইসলাম

১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মহেশখালী চ্যানেলে হবে সেতু

Reporter Name / ৮৪ Time View
Update : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

◾ওয়াজেদুল হক মণি,মহেশখালী :
কক্সবাজার ও মহেশখালীর মধ্যকার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ঘোচাতে বহুল প্রতীক্ষিত মহেশখালী-কক্সবাজার সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অবশেষে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্বাসে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে জানাগেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বদলে যেতে পারে উপকূলীয় এই অঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন ও শিল্পখাতের সামগ্রিক চিত্র।

 
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে নতুন করে গতি সঞ্চার হওয়ায় উপকূলীয় জনসাধারণের মাঝে দেখা দিয়েছে উৎসাহ উদ্বীপনা। তারা আশান্বিত হচ্ছেন নতুন বিএনপি সরকার এই যোগান্তকারী সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নে সফল হবে।
 
সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বর্তমান সরকারের আমলেই এ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে জানিয়েছেন।
 
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অর্থনীতি, পর্যটন, পরিবেশ ও নদী শাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়।
 
সেতু সচিব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকল্পটি প্রত্যাশিত অগ্রগতি পায়নি। তবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি নতুন করে গতি পেয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মহেশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে কক্সবাজার ও মহেশখালীর মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
 
তিনি আরও বলেন, সেতু বা টানেল নির্মিত হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন শিল্প এবং সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ করে পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে এবং মহেশখালীর শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
 
জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজিবসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কক্সবাজার ও মহেশখালীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন।
 
সভায় অংশগ্রহণকারীরা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, নদী শাসন কার্যক্রম জোরদার এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) যথাযথভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানান।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার-মহেশখালী সংযোগ স্থাপনে সেতু নির্মাণ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও নানা জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে সাম্প্রতি স্থানীয় এমপি আলমগীর ফরিদের উদ্যোগে প্রকল্পটি আবারও সক্রিয় আলোচনায় এসেছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মহেশখালীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
 
কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল বা চৌফলদণ্ডী এলাকা থেকে মহেশখালীর গোরকঘাটার সেতু নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় আসছে। সাথে মাতারবাড়ি অংশে সংযোগ স্থাপনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
 
এটি দৈর্ঘ্য সংযোগ সড়কসহ প্রায় ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার হতে পারে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য হতে পারে প্রায় ২.৫ থেকে ৪ কিলোমিটার। সংশ্লিষ্টদের মতে এই সেতু নির্মাণে প্রায় ৮ হাজার কোটি থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় হতে পারে।
 
সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশার জন্য ১–২ বছর এবং নির্মাণ কাজের জন্য ৪–৬ বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও তীব্র স্রোত, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, নদী ও চ্যানেল শাসন, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনস্বার্থ সংরক্ষণ ইত্যাদি এই সেতু নির্মাণে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।
 
তবে এর সুফল হবে সুদূর প্রসারী। এই সেতু নির্মিত হলে কক্সবাজার ও মহেশখালীর মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি আর থাকবেনা। পর্যটন শিল্পের বিকাশ, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প ও শিল্পাঞ্চলের সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category