• বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন



খাদ্যের নিরাপত্তায় মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা অপরিহার্য

Reporter Name / ১০১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১



খাদ্যের নিরাপত্তায় মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা অপরিহার্য
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাটির গুরুত্ব অপরিসীম। খাদ্য নিরাপত্তা নির্ভর করে টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনার ওপর। শিল্পায়ন, নগরায়ন, বাড়ি-ঘর নির্মাণ, রাস্তাঘাট তৈরিসহ নানা কারণে চাষের জমি কমছে। এই দুই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন। এসব বিবেচনায় নিয়ে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা ও শস্যের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। সে জন্য মাটিকে সজীব রাখতে হবে, মাটির গুণাগুণ বজায় রাখতে হবে। অধিক ফসল ফলাতে সুষ্ঠুভাবে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার ও সার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা যুগ্ম সচিব মো. এনামুল হক।
উপজেলা ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা বা ইউনিয়ন সহায়িকা ব্যবহার করে বরেন্দ্র অঞ্চলের অম্লীয় মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনাবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুগ্ম সচিব মো. এনামুল হক এসব কথা বলেন। তার দাবি- ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যায়, এতে প্রাকৃতিক পরিবেশে বা ইকোসিস্টেমে ভারসাম্য ক্ষুণ্ন হয়। তাই ফসল উৎপাদনে পানি ব্যবস্থাপনাও জরুরি। ভূগর্ভস্থ পানি ও কৃষি মাটিকে ঘিরেই সভ্যতার এত আয়োজন। কৃষি মাটিই নিশ্চিত করে জীবের খাদ্য নিরাপত্তা। পৃথিবীর সব প্রাণিকূলের খাদ্যের যোগান এ মাটি থেকেই। মাটি এবং পানি প্রাকৃতিক এ দুটি উপাদানই নির্ধারিত।
তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য মাটি-পানি-বায়ু পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ধারাবাহিকতার ওপর নির্ভর করে, যা মাটিতে প্রক্রিয়াগুলোর দ্বারা দৃঢ়ভাবে সংহত হয়। বিজ্ঞানীরা মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করেছেন। দেশে মাটির গুণাগুণ ধরে রাখতে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জমিকে চাষের আওতায় আনার জন্য গবেষণার মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে। যার মাধ্যমে টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনায় সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাটি সুস্থ রাখতে সার ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। পরিমাণ মতো, চাহিদা অনুযায়ী সার প্রয়োগ হলে মাটির স্বাস্থ্য ভাল থাকবে, আর মাটি সুস্থ থাকলেই কেবল নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। এ জন্য প্রয়োজন টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কার্যালয় পাবনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন বলেন, খাদ্য চাহিদা পূরণের চ্যালেঞ্জ মোবাকাবেলা করতে হলে মাটির স্বাস্থ্য ঠিক রাখা ছাড়া উপায় নেই। মাটি ব্যবস্থাপনা ছাড়া চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা অসম্ভব। মাটি, প্রযুক্তি, বায়োটেকনলজি ব্যবহার করতে হবে। মাটিতে নির্দিষ্ট পরিমাণে সার না দিলে উৎপাদনে বিপর্যয় অনিবার্য। ফসলি জমিতে পরিমাণ মতো সারের ব্যবহার করতে হবে। ক্ষতিকর সার ব্যবহার করার জন্য মানব স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণে আপনারা যা শিখলেন সেটি মাঠ পর্যায়ে কাজে লাগান। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিন।
সোমবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত¡ গবেষণা কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে তিন দিনের প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের এএসএমএসসিপি শীর্ষক কর্মসূচির অর্থায়নে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোখলেসুর রহমান, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কার্যালয় পাবনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বিভাগীয় কার্যালয় রাজশাহীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম। সঞ্চালনায় ছিলেন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কার্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূরুল ইসলাম। শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ ও সার সুপারিশ কার্ড তুলে দেন অতিথিরা।




আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category