গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার আলিনগর-বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের রামদাস বিল এলাকায় জাল দিয়ে পাখি শিকার করার সময় ০৩ জন ব্যক্তিকে আটক করেন এলাকাবাসী।
আজ সোমবার ভোর ৬টার দিকে মাশোয়ারুল হক জিকেনের নেতৃত্বে শিকারকৃত- মাঠ বাবুই, ঘুঘু, চা পাখিসহ মোট ২৩টি পাখি ও প্রায় ৫০টি পাখি শিকারের ফাঁস-জালসহ তিন জন শিকারীকে আটক করা হয় । পাখি শিকারীরা হলেন, গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের মিরাপুর বটতলা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে জিয়াউর রহমান (২৮), আব্দুর রাহিমের ছেলে মোবারক হোসেন (১৯), আব্দুস সালামের ছেলে রাজু মিয়া (১৯)।
মাশোয়ারুল হক জিকেন জানান, অতিথি পাখিসহ নানা ধরণের পাখির এই অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে অত্র এলাকার চড়ুইল, সোনাতলা ও রামদাস বিলকে কেন্দ্র করে। প্রায় ৭-৮ বছর পূর্বেই গোমস্তাপুর উপজেলাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। প্রতিবছর বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষক ও পাখিপ্রেমীরা এই এলাকা পরিদর্শনে আসেন।
তিনি এলাকার লোকজনের সহায়তায় পাখি শিকার বন্ধ করার জন্য নিয়মিত ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।
পাখি শিকার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে আটক শিকারীদের পুলিশে সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে শিকারীদের ভুল স্বীকার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পরামর্শের প্রেক্ষিতে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। তারা উপস্থিত লোকজনের সামনে প্রতিজ্ঞা করেছেন, আর কখনোও কোথাও পাখি শিকার করবেন না এবং পাখি শিকারের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা চালাবেন। পরে শিকারকৃত মাঠ বাবুই, ঘুঘু, চা পাখিসহ মোট ২৩ টি পাখি অবমুক্ত করা হয় এবং পাখি শিকারে ব্যবহৃত ফাঁস-জাল লোকজনের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
তিনি আরো জানান, গত কয়েকদিন আগে মকরমপুর গ্রামের টুটুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোররাতে রামদাস বিল এলাকায় পাখি শিকারীর খোঁজে যান তিনি। পাখি শিকারীদের কাছে কৌশলে পাখি কিনে নিতে চান এবং আটকে রাখেন। পরে মোবাইলে আরো লোকজন ডেকে তাদের জাল জব্দ করেন।
মাশোয়ারুল হক জিকেন বলেন, “আমি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণার জন্য ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।প্রশাসনিকভাবে প্রচার-প্রচারণা হলে বিষয়টি আরো গুরুত্ব পাবে।”
উল্লেখ্য,গত ১৭ অক্টোবর এক শিকারীকে আটক করা হয়।
