আজ মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন

আমন ধান কাটা শুরু বাজারে ধানের মুল্য কম হওয়ায় কৃষকের সোনালী স্বপ্ন ভেস্তে যাচ্ছে

নাচোল প্রতিনিধি ঃ
বরেন্দ্র ভূমি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে কৃষকের আমন ধান কেটে বাড়িতে উঠলেও ধানের বর্তমান বাজার মূল্যে কম হওয়ায় কৃষকের সোনালী স্বপ যেন ভেস্তে যাচ্ছে। ধান উৎপাদনে খরচের তুলনায় বর্তমান বাজারমূল্য অনেক কমমুল্য হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কৃষকের জমিতে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য সামগ্রী বাঁকীতে নেওয়ায় মহাজনেরা কয়েক দিনের মধ্যেই পাওনা আদায়ের জন্য (মৌসুমী হালখাতার) চিঠি দিবেন বলে সকল প্রস্তিুতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত ১ ডিসেম্বর রবিবার নাচোল বাজারে নতুন আমন ধানের মূল্য ৬ শ’২০ টাকা মন দরে বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উপজেলার সূর্য্যপুর গ্রামের কৃষক ও আদিবাসী নেতা বিধান সিং, হাঁকরইল গ্রামের কৃষক সেকান্দার আলী, আলী আকবর ও একরামুল হক, রাজবাড়ীহাট এলাকার মেঘনাধ ওরাও, আন্ধরাইল গ্রামের কৃষক নাজিমুদ্দিন, সোনামসনার গ্রামের কফিল উদ্দিন ও মিজানুর রহমান, কালইর গ্রামের শিক্ষক নাজিম আল মামুন, মাক্তাপুর গ্রামের মতিউর রহমান খোকন, বহরইল দিঘিপাড়া গ্রামের খুরসেদ আলী ও স্বপন আলীসহ শতাদিক কৃষক জানান, এক বিঘা জমিতে আমন আবাদে উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৪শ’টাকা থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা।
জমিতে এবছর বিঘা প্রতি উৎপাদন হয়েছে ১৪-১৬ মন ধান। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৬শ’ ২০ টাকা মন দরে ৮ হাজার ৬শ’৮০ টাকা বা সর্বউর্ধে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু বর্গা জমিতে আবাদ করলে জমির মালিককে দিতে হবে ৪মন, ধান কাটা শ্রমিকের মজুরী ৪ মন, ধান উঠানো গাড়িভাড়া ও মাড়াই খরচ ১ মন। মোট ৯ মন ধান খরচ হচ্ছে। বিঘা প্রতি আবাদ খরচ সার, বিষ, কীটনাশক, নিড়ানী ও শ্রমিক মূল্য মিলিয়ে (৫হাজার, ৫শ’ ৮০টাকা ও উৎপাদন খরচ ৭ হাজার ৪শ’ টাকা ) মোট ১২ হাজার, ৯শ’ ৮০টাকা। বিঘা প্রতি মোট উৎপাদিত ১৪ / ১৬ মন ধান থেকে ৫/৭ মন ধান উৎপাদন খরচ হলে কৃষকের প্রতি বিঘা কৃষকের থাকলো ৯ মন, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫ হাজার ৫শ’৮০টাকা। এমন পরিস্থিতিতে কৃষককে বিঘা প্রতি প্রায় ২ হাজার টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। তাই কৃষক বাঁচার যে সোনালী স্বপ্ন নিয়ে আবাদ করেছে, সে স্বপ্ন ভেস্তে যাচ্ছে ।
উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, এবছর আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ২২হাজার, ৫শ’ ৭৮ হেক্টোর, অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২৩ হাজার হেক্টোর। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৬ লাখ, ৩ হাজার, ৬শ’ ১১ মেঃ টন। তবে এবছর ধান পাকা অবস্থায় মৌসুমী বৃষ্টি পাতের কারণে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত নাও হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
একদিকে সরকার কৃষকদেরকে ভর্তুকী দিয়ে সার, বীজ কীটনাশক ও সেচ খরচ দিয়ে আসছে। অন্যদিকে ধানের বর্তমান বাজার দরে কৃষকরা হতাশ হয়েছে। আবার লটারীর মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা মন দরে আমন ধান সংগ্রহ করছে। সব মিলিয়ে কৃষকরা সুখি নয় এটাই বাস্তবতা এমনটি বলছেন স্থানীয় কৃষকরা।

error: Content is protected !!