রিফাত আরেফিন :
যশোর শহরের রেলগেট, রায়পাড়া রেল স্টেশন, খড়কিসহ বেশ কিছু এলাকা ভাসছে অবৈধ মাদক দ্রব্যে। দেদারছে চলছে অবৈধ মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র কারবার আর একই সাথে শুরু হয়েছে নিয়মিত ছিনতাই, খুন, জখমসহ নানা অপরাধ। মাদকের কারনে এসব অপরাধ হচ্ছে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।
এ সকল অপরাধ জগতের গডফাদার মাহাবুব আলম ম্যানসেল। আর ম্যানসেলের প্রধান সহযোগী হিসাবে কাজ করছে শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী, আসিফ, জাফর, রুবেল ফয়সাল, বাপ্পি, টেটো সুমন, বিদ্যুৎ, সোহেল, পলিথিন বাবুসহ আরো অনেকে। তবে পলিথিন বাবুর প্রধান সহযোগী হিসাবে কাজ করে তার দুই শ্যালক ইমদাদুল হক রাজু ও তাজু।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়,পলিথিন বাবু বেনাপোল বন্দর দিয়ে যশোরে মাদক ঢুকানোর জন্য বেছে নিয়েছে অভিনব পন্থা। পলিথিন বাবু একটি পরিবহনে চেকার হিসাবে কাজ করলেও তার আসল কাজ বেনাপোল থেকে যশোর মাদক আমদানি করা। এছাড়া বাবুর নামে অস্ত্র, মাদক ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের রায়পাড়া এলাকার ইমদাদুল হক রাজু (৩৬) ও তাজু (৩২), ছোটর স্ত্রী শিলি বেগম (৪২), একই এলাকার মরা‘র স্ত্রী আসমা বেগম (২৫), সেকেন্দারের স্ত্রী সাই বেগম (৪০), সেকেন্দারের ছেলে হোসেন আলী (৩২), করিম গাজির ছেলে মিন্টু গাজি (৩০), লিয়াকতের ছেলে রহমান (৩১), প্রিন্স (৩৮) ও কুরবানের ছেলে জুম্মান (৩৫)।
রেল স্টেশন এলাকার রবিউল (৪৬), আবুল হোসেনের ছেলে রাজ্জাক (৩৪) ও লিয়াকতের ছেলে শানু হোসেন (৩০) ও রাজন (৩০), রেলগেট এলাকার মনির স্ত্রী নাসরিন বেগম (২৫), মুজিবরের স্ত্রী জহুরা বেগম (৪৪), জালালের ছেলে বাবু (৩৫), করিমের ছেলে সবুজ (২৯), মিন্টু (৩৪), আমিনুর (২৭), সম্পত্তির ছেলে সোহেল (২৮), মরা ও তার স্ত্রী আসমা, ব্লাক তপন (৩৫), শুকুর (৩০), ডালিমের ভাই লুতু (৪০), মারুফের ছোট বউ সুমি।
রেলগেট কলাবাগান পাড়া এলাকার ছোয়েদ ও স্ত্রী নার্গিস, সুফির ছেলে সোহেল (৩৫), শহিদুল (৪০), শাহীন(৪০), রকি (৩২), ডলার (৩০), চাঁন গাজি স্ত্রী আনু বেগম (৩৮), আজিজের ছেলে ডালিম হোসেন (৩৮), শিউলি (২৫) ও ছেদির ছেলে ফয়সাল (৩৮) ও খড়কির ইমরান (৩০), আমজাদের ছেলে কবির (৩৮) ও পিচ্চি রাজা ডিলারদের কাছ থেকে এসকল মাদক ক্রয় করে খুচরা বিক্রি করে থাকে।
এছাড়াও মুজিব সড়ক পঙ্গু হাসপাতালের সামনে জবা বেগম (২৮), মৃত আক্তার হোসেনের মেয়ে তিসা আক্তার প্রিয়া (২২) ও প্রিয়ার মা শাহানাজ বেগম (৫০) ও এ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ী তিসা আক্তার প্রিয়ার সহযোগি রোকেয়া বেগম (৪৩)।
এ বিষয়ে এলাকার একাধিক অভিভাবক জানায়, এসকল এলাকায় যে হারে মাদক ব্যবসা বেড়েছে তাতে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেয়। দ্রুত প্রশাসন যদি হস্তক্ষেপ না করে তাহলে আমাদের ছেলে-মেয়েদের মাদকের দিকে ঠেলে দেওয়া ছাড়া আর কোন গতি থাকবে না।
এ বিষয়ে যশোর কোতয়ালী থানার অফিস ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে, অভিযান চলছে, অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।”