রূপসায় উদ্ধার হওয়া দুই পথ শিশুর নতুন ঠিকানা শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র

Rubel Rubel

Islam

প্রকাশিত: ৪:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১

রূপসা প্রতিনিধি: রূপসা উপজেলার সেনের বাজার ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার হলো ২ পথ শিশু। মাত্র ৬ ঘন্টা ভালোবাসা, মমতা, আদর এবং ¯েœহ পেয়ে পথ শিশু দুটি নির্বাহী অফিসারকে মায়ের মতো জড়িয়ে ধরে আদর করতে শুরু করলো। শিশু ২ টির ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নির্বাহী অফিসারও মমতাময়ী মা হিসেবে তাদেরকে বুকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করে আদর করতে লাগলেন। বিষয়টি প্রত্যক্ষদর্শীদের হতবাক করেছে। জানাগেছে গত ১৩ জানুয়ারী রাতে রূপসা উপজেলার নির্বাহী অফিসার নাসরিন আক্তার জানতে পারেন আইচগাতী সেনের বাজার ঘাট এলাকায় দুটি পথ শিশু দিনে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে এবং রাতে রাস্তার পাশে ঘুমিয়ে পড়ে। পরের দিন ১৪ জানুয়ারী সকালেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল ও স্থানীয় ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই সেকেন্দার পথ শিশুদের উদ্ধার করে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। জানাগেল তারা বরিশাল জেলার কোন একটি গ্রামের বাসিন্দা ছিল। ছেলে শিশুটি ইমরান হেলাল (৮), পিতা: জুয়েল, মাতা: লাবনী আর মেয়ে শিশুটি খাদিজা আক্তার মিম (৯), পিতা খোকন, মাতা সাবানা এই পরিচয় ছাড়া শিশু দুটি আর কিছুই বলতে পারেনা। তবে তারা কোনদিন নিজ মা বাবাকে দেখেনি এবং নানির কাছে বড় হয়েছে বলে জানায়। কিছুদিন পূর্বে তাদের নানী মারা যায়। কিন্তু তারা কিভাবে কার মাধ্যমে সেনেরবাজার ঘাট এলাকায় গত ৪/৫ দিন পূর্বে এসেছে সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারেনি শিশুরা। নির্বাহী কর্মকর্তা তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে প্রেরণ করার উদ্দেশ্যে যোগাযোগ শুরু করেন দুপুর ২ টা থেকে। তিনি খুলনা ও বাগেরহাট বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে কোথাও শিশুদের পুনর্বাসনে ব্যবস্থা করতে না পারায় এক পর্যায়ে ভেঙ্গে পড়েন। পরিশেষে তিনি যোগাযোগ করেন খুলনা শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষন ও পূর্নবাসন কেন্দ্রে। সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সব বিষয় শুনে তাদেরকে গ্রহন করার সম্মতি জ্ঞাপন করেন। ইতিমধ্যে শিশুদের গোসল করিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ানো হয় এবং তাদেরকে নতুন পোষাক ক্রয় করে তা নিজ হাতে নির্বাহী কর্মকর্তা পরিয়ে দেন এবং আহত শিশু ইমরান হেলালকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মেডিকেল অফিসারকে আহবান করা হয়। তাৎক্ষনিক ভাবে মেডিকেল অফিসার ডা. পিকিং শিকদার নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে তাদেরকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। এদিকে গড়িয়ে গেছে ৬ ঘন্টা। এক পর্যায়ে খুলনা শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষন ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে শিশু দুটিকে পৌছানোর জন্য থানা পুলিশকে তলব করা হলে থানা পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে আসে। যখনই শিশুরা বুঝতে পারে তাদেরকে নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয় ছেড়ে চলে যেতে হবে তখন তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং নির্বাহী কর্মকর্তাকে আম্মু সম্বধন করে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করতে থাকে। এ সময় নির্বাহী কর্মকর্তাও তাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তাদেরকে নিজ সন্তান মনে করে চুম্বন করেন। বিষয়টি দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরাও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ মহতী কাজে সহযোগিতা করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবু বকর মোল্লা, সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেন, সমাজসেবক হাবিবুর রহমান, আজিজুল ইসলাম সহ নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।