প্রেসক্লাবে তালা দেওয়ার ৩ দিন পর আসবাবপত্র ও সাইনবোর্ড উধাও

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২১

মানিকগঞ্জ ৩০ মার্চ ২০২১:
দৌলতপুর প্রেসক্লাবে তালা দেওয়ার ৩ দিন পর রাতের আধারে প্রেসক্লাবের আসবাবপত্র ও সাইনবোর্ড উধাও। মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেন ইউএনও।
জানা গেছে, দৌলতপুর প্রেসক্লাবে তালা ঝুলানোর ৩ দিন পর ২৯ তারিখ দিবাগত রাতের আধারে প্রেসক্লাবের চেয়ার-টেবিল, সাংবাদিকদের ব্যবহৃত কম্পিউটার ও ভবনের সামনে টানানো প্রেসক্লাবের সাইনবোর্ড উধাও হয়ে যায়। এ নিয়ে উপজেলার সাংবাদিক ও সচেতন মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ.বি. খান বাবু অভিযোগ করে বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ সততা ও নিষ্ঠার সাথে দৌলতপুরে সাংবাদিকতা করছি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সাল থেকে দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ভবনটি ব্যবহার করে আসছি। সমাজের নির্যাতিত নিপিড়ীত মানুষের পক্ষে ও সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছে দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাব। বর্তমান ইউএনও মোঃ ইমরুল হাসানের বিরুদ্ধে বেশকিছু জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আমাদের প্রেসক্লাবে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। আজ সকাল সাড়ে ৭টায় উপজেলা চত্ত্বরে গিয়ে দেখি প্রেসক্লাবের সাইনবোর্ড নেই। এতে সন্দে হওয়ায় প্রেসক্লাবের বারান্দায় প্রবেশ করে জানালার ফাঁক দিয়ে দেখি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের ব্যবহৃত চেয়ার-টেবিল, ফাইল ক্যাবিনেট, আলমারি, কম্পিউটার, স্ক্যানার, ফ্যাক্স মেশিন এবং বিভিন্ন দপ্তর থেকে আমাকে প্রদানকৃত সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই।
তিনি আরো বলেন, গত ৪ দিন আগে প্রেসক্লাবের দরজায় আমার লাগানো তালার উপর ইউএনও’র দেওয়া তালা ঝুলানো ছিল। আজ দেখি আমার তালা নেই, শুধু ইউএনও’র তালা ঝুলছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে সাংবাদিক মহল এ ধরণের আচরণ কামনা করে না। সে শুধু উপজেলা প্রেসক্লাবে তালা দেয়নি, সে সারা বাংলাদেশের পেশাগত সাংবাদিকদের মুখে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। আমি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সাংবাদিকদের অভিভাবক মাননীয় তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের কাছে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানাই।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাব পূর্বের ইউএনও বৃন্দের সম্মতিক্রমে যেহেতু উপজেলা পরিষদ ভবনে ব্যবহার হয়ে আসছে সেক্ষেত্রে বর্তমান ইউএনও ব্যক্তি আক্রোশের কারণে বিনা নোটিশে প্রেসক্লাবে তালা লাগিয়ে গোটা সাংবাদিক সমাজকে হেয় করেছে। রাতের আধারে প্রেসক্লাবের সাইনবোর্ড, ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সড়িয়ে ফেলে প্রেসক্লাব দখল করা একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে জাতি আশা করেনা। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
তিনি আরো বলেন, কতিপয় অসাধু সাংবাদিক আমার সাথে কথা না বলে কিছু ভুঁইফোড় অনলাইনে ইউএনও’র পক্ষের সংবাদে আমার বক্তব্য প্রকাশ করেছে। যা সাংবাদিকতা পেশার নিয়ম বর্হিভূত। আমি প্রকাশিত ওই বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আজিজুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যালয় দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ ভবনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আমার জানামতে সাংবাদিক এ.বি. খান বাবু ওই প্রেসক্লাবের সভাপতি।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরুল হাসান বলেন, উপজেলা পরিষদ ভবনে কখনোই প্রেসক্লাব ছিল না। শানদার ডেকে এনে ওই রুমের তালা খুলে ফেলা হয়েছে। ওখানে আমি কখনো সাইনবোর্ড দেখিনি। তবে আসবাবপত্র যেভাবে ছিল সেভাবেই আছে, সড়ানো হয়নি।