• শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শার্শার বাগআঁচড়ায় আওয়ামী লীগের কর্মিদের উপর হামলা-কুল বাগান কেঁটে সাবাড় সাংবাদিক হারুন অর রশিদের পিতা আপ্তার আলী হাওলাদার আর নেই করোনায় বন্ধ থাকার দীর্ঘ দেড় বছর পর আবারো চালু হলো ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেন করোনায় বন্ধ থাকার দীর্ঘ দেড় বছর পর আবারো চালু হলো ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেন তাহেরপুর দুইটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ ইদ্রিস আহমদ মিঞার স্মরণসভা গোদাগাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত দুই রহনপুরে বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও ব্যবসায়ীর মৃত্যু তাহেরপুর বাজারে পাটের গুদামে অগ্নিকান্ড নাচোল ইলামিত্র পাঠাগার ও সংস্কৃতি চরচাকেন্দ্র পরিদরশন করেন জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধান নিরবাহী করমকরতা



বৃষ্টির পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

Reporter Name / ৯১ Time View
Update : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১



বৃষ্টির পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সারাদেশের ন্যায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জেও বৃহস্পতিবার (২৭ মে) সকাল থেকে গভীর রাত ও শুক্রবার (২৮ মে) ভোর পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানিতে জেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি বিল থেকে ভেসে গেছে কৃষকদের কেটে ও বেঁধে রাখা ধান। বেশিরভাগ কৃষকের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেকের আঁটি বেঁধে রাখা ধান ভেসে গেছে পানির স্রোতে। জেলার সদর উপজেলা, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় জমির ধান পানিতে তলিয়ে ও ভেসে গেছে।

সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের গুনিরমোড় গ্রামের শংকোপুরা বিলে শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বিলে শুধুই পানি আর পানি। অথচ বৃহস্পতিবার সকালেও বিলের বিস্তৃর্ণ মাঠ জুড়ে ছিল ধানের স্তুপ। এই বিলের বেশিরভাগ ধান কেটে রাখা হয়েছিল শুকানোর জন্য। এসব ধানের সবগুলোই বেঁধে রাখা হয়েছিলো। প্রায় শেষ মুহুর্তে এসে বৃষ্টির পানিতে ধান ভেসে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত শংকোপুরা বিলের ধানচাষীরা। অনেকের মোট ধানের প্রায় সিংহভাগই ভেসে গেছে পানিতে।

কৃষকরা জানান, বেশিরভাগ ধান গভীর রাতে ভেসে খাড়ি দিয়ে নদীতে ভেসে চলে গেছে। এই গ্রামের অনেকেই আবার এসব ভেসে যাওয়া ধান সংগ্রহ করে বাসায় নিয়ে এসেছেন। তবে শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখা গেছে, ভেসে যাওয়া ধান সংগ্রহে ব্যস্ত অনেক কৃষক। কয়েকজন কৃষক সপরিবারে এসেছেন ভেসে ও তলিয়ে যাওয়া ধান সংগ্রহ করে রাস্তার পাশে জড়ো করতে।

শংকোপুরা বিলের কৃষক মহরম আলী জানান, এই বিলের অন্তত কয়েকশ বিঘা ফসলী জমির ধান কেটে ও বেঁধে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সারাদিন-রাতের টানা বৃষ্টিতে পুরো বিলের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বেশিরভাগই ধান ভেসে চলে গেছে পানির স্রোতে। পানি নামার কোন সুবব্যস্থা না থাকার কারনেই এই সমস্যা হয়েছে। এছাড়াও বিলের মাঝে কয়েকটি পুকুর কাটার কারনে পানি নামছে না।

পাশের গ্রাম ঘুঘুডিমার কৃষক মুক্তার আলী বলেন, এই বিলে সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষাবাদ করেছিলাম। কিন্তু বৃহস্পতিবার সারাদিন ও রাতের বৃষ্টিতে দুই বিঘা জমির সম্পূর্ণ ধান ভেসে গেছে। দিনব্যাপী বৃষ্টির কারনে কেটে রাখা ধানগুলো নিরাপদে সরিয়ে নিতেও পারিনি। শুক্রবার সকালে এসে দেখছি ২ বিঘা জমির একটা ধান নেই। সব ভেসে খাড়ি ও নদীতে চলে গেছে।

৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়াশোনা করে কাবির আলী। বাবার তলিয়ে যাওয়া ধান সংগ্রহ করতে মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে বিলে এসেছে সে। সকাল থেকে বুক সমান পানিতে হেঁটে হেঁটে বাবার সাথে ধান রাস্তার পাড়ে নিয়ে আসছে কাবির। সে জানায়, বাবা কয়েকদিন থেকেই মাঠ থেকে ধানগুলো নিয়ে যাবো যাবো করছে। কিন্তু গরুর গাড়ি না পাওয়ায় নিয়ে যেতে পারছে না। শনিবার গরুর গাড়িতে ধানগুলো বোঝায় করে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা আর হল না। পানিতে তলিয়ে সব ভেসে গেছে। এখন যা রয়েছে, তা বাড়ির সবাই মিলে ধরে ধরে রাস্তার ধারে নিয়ে আসছি।

মাদরাসা শিক্ষক আকতারুল ইসলাম বলেন, বিলে চাচার ২ বিঘা ধান ছিল। বৃষ্টির পানিতে সব ধান তলিয়ে গেছে। সাথে ৩ ভাই ও চাচাকে নিয়ে এখন তলিয়ে যাওয়া ধানগুলো জালে করে ভাসিয়ে রাস্তার ধারে নিয়ে আসছি। এবছর বিলের ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু দিনব্যাপী হওয়া বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে ও ভেসে যাওয়ায় অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বিলের প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক। সেই সাথে কুড়িয়ে যতটুকু ধান সংগ্রহ করা যাচ্ছে, বারবার টানা হেচড়া করার কারনে ফলন ঝরে যাচ্ছে।

গুনিরমোড় গ্রামের দিনমজুর আলমগীর ছোট ভাইকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার সকালে শংকোপুরা বিলের ব্রীজের নিচে ভেসে যাওয়া ধান কুড়িয়েছে। কুড়িয়ে পাওয়া ধান মাড়ায় করতে করতে তিনি জানায়, বিলের পাশেই আমাদের বাড়ি। রাতে ও সকালে গ্রামের অনেকেই ভেসে যাওয়া ধান কুড়িয়েছে। আমরাও দুই ভাই তাদের মতো ব্রীজের নিচে গিয়ে ভেসে যাওয়া ধান ধরে ধরে নিয়ে এসেছি। এই গ্রামে ভেসে যাওয়া ধান কুড়িয়ে একেকজন ৫-৬ মন করে ধান পেয়েছে বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জেলায় বেশিরভাগ ধান ঘরে উঠেছে। তবে হঠাৎ করে সারাদিন ও রাতের বৃষ্টিতে কয়েক জায়গায় কেটে স্তুপ করে রাখা ধান তলিয়ে ও ভেসে যাওয়ায় খবর পেয়েছি।

উল্লেখ্য, জেলায় এবছর ৪৯ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে এবং ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার মেট্রিক টন।




আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category