ইমরান খানের নতুন আইন, ধর্ষণ করলেই কেড়ে নেয়া হবে পুরুষত্ব

Rubel Rubel

Islam

প্রকাশিত: ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- পাকিস্তানে ধর্ষণের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এবার এ অপরাধ রুখতে রাসায়নিক প্রয়োগে ধর্ষকদের পুরুষাঙ্গ (‘কেমিক্যাল কাস্ট্রেশন’) অকেজো করতে আইন প্রণয়ন এবং যৌননিগ্রহ মামলায় দ্রুত শুনানির অনুমোদন দিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকার।

জানা গেছে, মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে রাসায়নিকভাবে লিঙ্গচ্ছেদের পাশাপাশি ধর্ষকদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়ার দাবি তোলেন ইমরান খানের ক্যাবিনেটের সদস্যরা।

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল তেহরিক-ই-ইনসাফের আইনসভার সদস্য ফয়জল জাভেদ খান জানান, শিগগিরই লিঙ্গচ্ছেদ সংক্রান্ত বিলটি পার্লামেন্টে পেশ করা হবে।

এদিকে, এব্যাপারে এখনও সরকারিভাবে কোনো কিছু ঘোষণা করেনি পাক সরকার।

জানা গেছে, ধর্ষণরোধে তৈরি নতুন আইনে খসড়ায় বেশি সংখ্যক পুলিশ নিয়োগ, ফাস্ট ট্র‌্যাকিং কোর্ট বসানো এবং সাক্ষীর নিরাপত্তার বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইমরান এটাকে গুরুতর বিষয় বলে উল্লেখ করে বলেছেন, নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের কর্তব্য। এব্যাপারে কোনও গাফিলতি তিনি বরদাস্ত করবেন না বলেও জানিয়েছেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, নির্যাতিতারা নির্ভয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সুরক্ষা এবং পরিচয় গোপন রাখার দায়িত্ব সরকারের।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে লাহোরে ধর্ষণ করে খুন করা হয় সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে ও ধর্ষকদের জন্য কড়া আইনের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। এছাড়া, গত বছর ধর্ষণ করে খুন করা হয় পাকিস্তানে মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রী নম্রিতা চান্দানিকে। ২০২০ সালে পাকিস্তানে এক যুবতীকে গণধর্ষণের পর নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটায় তিন যুবক।

পাশবিক এ ঘটনাটি ঘটে রাওয়ালপিন্ডি শহরের ওয়ারিস খান এলাকায়। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেও পরে ছাড়া পায় সে। সেবার প্রতিশ্রুতি দিলেও এতদিন নতুন কোনো আইন আনেনি পাকিস্তান সরকার। কিন্তু লাগাতার বাড়তে থাকা ধর্ষণের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার নয়া আইন আনতে চলেছেন ইমরান খান।