ফয়সাল আজম অপু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আনন্দের নামে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর, পাড়া, মহল্লা ছাড়াও মহাসড়ক ও উপজেলার স্থানীয় সড়কে ট্রাক, পিকআপ, করিমন, নসিমন, ভুটভুটি, অটো, পাওয়ার টিলারে বাদ্য বাজনা ও উচ্চস্বরের সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এক শ্রেণির উশৃংখল যুবক। এ কারণে জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিশ্বরোড মোড়ের ভুক্তভোগীদের কয়েকজন। তাঁরা বলছেন, চাঁদ রাত থেকেই শুরু হয়েছে অত্যাধিক সাউন্ডে গান বাজানো। অনেক স্থানে ডিজে সাউন্ড ব্যবহার করার কারণে এ ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়েছে।
বুধবার (৪ জুন) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের টোলঘর, শিবতলা মোড়, শান্তি মোড়, বিশ্বরোড, নয়াগোলা সহ প্রতিটি মোড়ে দাঁড়ালেই এই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। ভুক্তভোগীদের মতে শুধু এসব এলাকা না বরং চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লার পাশাপাশি শহরতলীতে এর ভোগান্তি আরো বেশী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ঈদের দিন সকাল থেকেই চলছে উচ্চস্বরে বাদ্য-বাজনা। এতে অনেক বাড়িতে বৃদ্ধ, শিশু ও রোগীদের কষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া অনেক স্থানেই আপত্তিকর অনেক গান বাজানো হচ্ছে। এতে শিশুরা এ থেকে ভিন্ন শিক্ষা নিচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবেল শব্দে মানুষের সাময়িক শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে। অথচ জেলায় ১০৭ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ তৈরি হচ্ছে।
শব্দ দূষণের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে ১৯৯৭ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে শহরকে ৫ ভাগে ভাগ করা হয়েছে: নীরব এলাকা, আবাসিক এলাকা, মিশ্র এলাকা, শিল্প এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা। এসব এলাকায় দিন ও রাত ভেদে শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ডেসিবেল, শিল্প এলাকায় ৭৫ ডেসিবেল, নীরব এলাকায় ৪৫ ডেসিবেল, আবাসিক কাম বাণিজ্যিক এলাকায় ৬০ ডেসিবেল, রাতের জন্য সর্বত্র ১০ ডেসিবেলের কম। এই আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা চিহ্নিত করা হয়। আইনানুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এসব জায়গায় মোটরগাড়ির হর্ন বাজানো বা মাইকিং করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এর আগে সচেতন মহল অভিযোগ করেন, ইদানীং বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানাদি যেমন, গায়ে হলুদ, বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ ও বিভিন্ন সামাজিক উৎসব ও পার্বণকে লক্ষ্য করে রাস্তার মোড়ে কিংবা বাড়ির ছাদে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এমপিলিফায়ার ও সাউন্ড বক্স ব্যবহার করে শব্দ দূষন করে কোমলমতি ছাত্র/ছাত্রী এমনকি বয়স্ক লোকদের ক্ষতিসাধন করে আসছে। এমপিলিফায়ার ও সাউন্ড বক্স ব্যবহারের কারনে ছাত্র/ছাত্রীগন লেখাপড়া মনোনিবেশ করতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়াও ঘরে বিশ্রামরত বয়োঃবৃদ্ধ অসুস্থ মানুষ বিকট শব্দ দুষনের কারনে আরো অসুস্থ হয়ে পরছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সাউন্ড সিষ্টেম ব্যবহার করে সারাদিনের কর্মক্লান্ত মানুষগুলো যখন একটু শান্তিতে ঘুমাবার জন্য বিছানায় গা লাগিয়ে দেন তারাও শব্দ দূষনের কারনে অস্থির নির্ঘুম রাত কাটান।
এ ব্যাপারে পুলিশের ব্যপক তৎপরতা দেখা যায়। বিভিন্ন মোড়ে গাড়ি আটক করে সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ করে মুচলেকা নিয়ে ছাড়া হয়।
পুলিশ সার্জেন্ট মোঃ জোনাব আলি বলেন, পুলিশ সুপার এএইচএম আব্দুর রকিব বিপিএম-পিপিএম (বার) স্যারের নির্দেশনায় পুলিশের বিভিন্ন টিম অভিযান চালিয়ে সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ করছে। এবং বেপরোয়া গতি মোটরসাইকেল চালকদের আটকিয়ে মামলা দেয়া হচ্ছে।