প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকার পরেও এক নারীর কাছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ভুলার্নালেবল ওমেন বেনিফিট- ভিডব্লিউবি কার্ড করিয়ে দেয়ার নামে সাড়ে ৫ হাজার টাকা নেয়ার বিষয়ে তদন্ত শুরুর আগেই টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার গোহালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ০৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাকিব। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, ভোলাহাট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও তদন্ত কর্মকর্তা পঙ্কজ কুমার দাস।
তদন্ত কর্মকর্তা পঙ্কজ কুমার দাস বলেন, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগ হওয়ার পর ইউএনও স্যার আমাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কাজ শুরুর আগেই ইউএনও স্যার তাকে পুলিশ দিয়ে উঠিয়ে এনেছিলেন। এসময় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন।
তিনি আরও বলেন, শুরুতেই নিজের দায় স্বীকার করলেও তদন্ত শেষ হয়নি। এনিয়ে ইউএনও স্যার বিস্তর তদন্ত করতে বলেছেন। সে অনুযায়ী কাজ চলছে। সরেজমিনে ও তদন্তে যা পাওয়া যাবে, সে অনুসারে ইউএনও স্যারকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
ভুক্তভোগী নারী গোহালবাড়ি ইউনিয়নের খালেআলমপুর গ্রামের রিকশা চালক আব্দুস সামাদের স্ত্রী মোসা. জুলেখা। স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবার, অভিযোগের নথি ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৫-৬ মাস আগে নিয়ম অনুযায়ী ভিডব্লিউবি কার্ড পেতে অনলাইনে আবেদন করেন গৃহবধূ জুলেখা। পরে প্রাথমিক তালিকায় তার নামও আসে। এসময় কার্ড করে দেয়ার নামে ৫ হাজার ৫০০ টাকা নেন ইউপি সদস্য আব্দুর রাকিব। এই টাকা ম্যানেজ করতে নিজের কানের দুল বন্ধক রেখেছেন জুলেখা। কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও কার্ড না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান মেম্বার।
এনিয়ে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন জুলেখা। তিনি বলেন, পরিবারে অভাবের শেষ নেই। শুনেছি এই কার্ড থাকলে মাসে ৩০ কেজি করে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হবে। তাই বাধ্য হয়েই শিশু মাতা (ভিডব্লিউবি) কার্ড করিয়ে নেয়ার জন্য কানের এক জোড়া দুল বন্ধক রেখে টাকা ম্যানেজ করে ৫ হাজার ৫০০ টাকা দেয় ইউপি সদস্য আব্দুর রাকিবকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘুরে ঘুরেও টাকা না পেয়ে ইউএনও-কে অভিযোগ দেয়। আশা করি, সুষ্ঠ তদন্ত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি আমার কার্ড করে পাব।
অভিযোগ উঠেছে, ইউএনও-কে জানানোর কারনে বাড়িতে দলবল নিয়ে আক্রমণ করেন ইউপি সদস্য আব্দুর রাকিব। এসময় পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মাদক মামলা ও হয়রানীর হুমকি দেন তিনি। গৃহবধূ জুলেখার ছেলে ও স্বামী অভিযোগ করে বলেন, দলবল নিয়ে বাড়িতে এসে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। ভয়ে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে থাকি। প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যায়, মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এদিকে, এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও বন্ধ পাওয়া যায় গোহালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ০২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাকিবের ফোন।
ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, ইউপি সদস্য আব্দুর রাকিবের বিরুদ্ধে ওই মহিলা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন৷ অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তকাজ চলমান রয়েছে। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ইউপি সদস্যের টাকা নেয়ার দায় স্বীকারের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।