সাইফুল আলম সম্পদ/নীলফামারী:
নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আকস্মিক ও প্রলয়ংকরী শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জনপদ। বিশেষ করে জেলার ডোমার,ডোমার এর চিলাহাটি ইউনিয়ন, ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেমন সম্পদহানি হয়েছে, তেমনি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয় কৃষকদের বুকফাটা আর্তনাদ এখন নীলফামারীর মাঠজুড়ে। আকস্মিক এই শিলাবৃষ্টিতে মাঠের পর মাঠ ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।শিলার আঘাতে অনেক স্থানে ভুট্টা গাছ ও উঠতি ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।মরিচ, আলু এবং অন্যান্য রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কৃষকদের মতে, এবারের এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
শিলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বহু বসতবাড়ির টিনের চালা ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। রাতের অন্ধকারে টিনের ফুটো দিয়ে ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েন ঘুমন্ত বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, বিগত ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি তারা দেখেননি। জীবন বাঁচাতে অনেকে ঘরের কোণে বা মজবুত টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন।
এখনো সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ পরিচালক মঞ্জুর রহমান জানান, আমরা ইতিমধ্যেই মাঠ পরিদর্শন শুরু করেছি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করতে। কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার চেষ্টা চলছে।”
আকস্মিক এই দুর্যোগে বিপর্যস্ত নীলফামারীবাসী এখন সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন। প্রশাসন থেকে দ্রুত টিন এবং কৃষি পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ।