• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সন্তান জন্মের পর কেন মানসিক সংকটে পড়েন মায়েরা নতুন পে স্কেল বেতনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩৫ জনের চাকরি মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে ‘মিস্টার ভেটো’ হওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের চীনের সামুদ্রিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ, গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এক কলেজে টানা দুই বছর শূন্য পাস, এক জেলায় এমন ছয়টি ফেসবুকে কী করা যাবে না, মাদ্রাসার শিক্ষকদের সতর্ক করল অধিদপ্তর শিক্ষার কোনো জেন্ডার নেই’, বক্তব্য দিলেন শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা কমিশন গঠন করতে চান না শিক্ষামন্ত্রী, জানালেন কারণ মোবাইল দিয়ে টাকা আয়, পেমেন্ট নগদ এবং বিকাশে অনলাইনে খতিয়ান নম্বর দিয়ে জমির মালিকানা যাচাই করবেন যেভাবে

এক কলেজে টানা দুই বছর শূন্য পাস, এক জেলায় এমন ছয়টি

Reporter Name / ২৩ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

নেত্রকোনা জেলা সদরে অবস্থিত নন-এমপিওভুক্ত ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ থেকে টানা দুই বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। শুধু এই কলেজই নয়, এবার জেলার আরও পাঁচটি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। সব মিলিয়ে জেলার ছয়টি কলেজের সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সব কটিই নন-এমপিওভুক্ত।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ থেকে চারজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন মানবিক বিভাগের এবং একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে তাঁদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এর আগের বছরও এ কলেজ থেকে দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হন। ফলে টানা দুই বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি।

কলেজ সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে জেলা সদরের একটি গ্রামে ‘ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি’ নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি সাফল্য পাচ্ছে না।

কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইকবাল হাসান তপু। প্রতিষ্ঠানে কতজন শিক্ষক রয়েছেন, জানতে চাইলে কিছুটা রাগান্বিত হয়ে তিনি বলেন, ‘এটি নন-এমপিও কলেজ। এখানে কোনো নিয়মিত শিক্ষক নেই। যখন যাকে প্রয়োজন, ডেকে আনা হয়। তাই নিয়মিত কোনো শিক্ষক নেই। সরকারের কোনো সুযোগ-সুবিধাও এখানে নেই।’

এ সময় তিনি জানান, চলতি বছর কলেজটি থেকে চারজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি।

জেলায় শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া অন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ, পূর্বধলার খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা, এম্বিশন মডেল কলেজ এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ।

জেলা শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গোপালপুর মডেল কলেজ থেকে একজন, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা থেকে চারজন, এম্বিশন মডেল কলেজ থেকে ছয়জন এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

এবার নেত্রকোনা জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ হাজার ৮৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭০ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে দ্রুত আলোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীরা কেন অকৃতকার্য হয়েছেন, তা অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca