পায়ের গোড়ালি ফাটা অনেকের কাছেই পরিচিত একটি সমস্যা। বিশেষ করে শীতকালে পায়ের গোড়ালি শুষ্ক ও শক্ত হয়ে যায়। এরপর হাঁটাচলা বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার চাপে গোড়ালির শক্ত চামড়ায় ছোট ছোট ফাটল তৈরি হয়। শুরুতে এসব ফাটলে তেমন ব্যথা না হলেও সময়ের সঙ্গে ফাটল গভীর হতে পারে। কখনো হাঁটার সময় ব্যথা হয়, এমনকি ফাটা জায়গা থেকে রক্তও বের হতে পারে।
অনেকে পা ফাটা দূর করার জন্য ঘরোয়া উপায় খোঁজেন। কেউ রাতে পায়ে তেল বা ভ্যাসলিন লাগান, কেউ কুসুম গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখেন, আবার কেউ বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ফুট ক্রিম ব্যবহার করেন। কিন্তু সব পদ্ধতি সবার জন্য সমান কার্যকর নয়। বিশেষ করে পায়ের গোড়ালি গভীরভাবে ফেটে গেলে বা ডায়াবেটিস থাকলে নিজের ইচ্ছামতো ঘরোয়া চিকিৎসা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
পা ফাটা দূর করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা, শক্ত ও মৃত চামড়া নিরাপদভাবে নরম করা এবং গোড়ালিতে অতিরিক্ত চাপ কমানো। নিয়মিত যত্ন নিলে সাধারণ শুষ্কতার কারণে হওয়া অনেক ফাটলই ধীরে ধীরে ভালো হতে পারে।
পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ কী?
পায়ের গোড়ালি ফাটার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক ও শক্ত হয়ে যাওয়ার পর গোড়ালিতে চাপ পড়লে চামড়া ফেটে যায়। তবে কিছু শারীরিক সমস্যা ও দৈনন্দিন অভ্যাসও এ সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
১. ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া
পা ফাটার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ত্বকের আর্দ্রতা কমে যাওয়া। পায়ের গোড়ালির ত্বক শুষ্ক হলে নমনীয়তা কমে যায়। ফলে হাঁটা বা দাঁড়ানোর সময় চাপ পড়লে ত্বকে ফাটল তৈরি হতে পারে।
২. শীতকাল ও শুষ্ক আবহাওয়া
শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসের প্রভাবে পায়ের ত্বক আরও শুষ্ক হতে পারে। এ ছাড়া শীতে অনেকেই গরম পানি দিয়ে গোসল করেন। অতিরিক্ত গরম পানিতে দীর্ঘ সময় পা ভিজিয়ে রাখলে ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমে গিয়ে শুষ্কতা বাড়তে পারে।
৩. দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা
যাঁদের কাজের প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাঁদের পায়ের গোড়ালিতে নিয়মিত চাপ পড়ে। বিশেষ করে শক্ত মেঝেতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে গোড়ালির নিচের অংশে চাপ বাড়ে। ত্বক আগে থেকেই শক্ত ও শুষ্ক হলে এই চাপের কারণে ফাটল তৈরি হতে পারে।
৪. খোলা স্যান্ডেল ও ভুল জুতা ব্যবহার
পেছন খোলা স্যান্ডেল বা স্লিপার গোড়ালিকে যথেষ্ট সমর্থন দেয় না। হাঁটার সময় গোড়ালির নিচের চর্বিযুক্ত অংশ দুই পাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ত্বকে টান তৈরি হয়। দীর্ঘদিন এমন জুতা ব্যবহার করলে গোড়ালি ফাটার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৫. অতিরিক্ত ওজন
শরীরের ওজন বেশি হলে পায়ের গোড়ালিতে চাপও বেশি পড়ে। এর ফলে গোড়ালির চারপাশে শক্ত চামড়া তৈরি হতে পারে। পরে সেই শক্ত চামড়া ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৬. ত্বকের কিছু রোগ
একজিমা, সোরিয়াসিস এবং অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের মতো সমস্যার কারণেও পায়ের গোড়ালি ফাটতে পারে। এসব ক্ষেত্রে শুধু ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলেই সব সময় সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসে না। মূল ত্বকের সমস্যার চিকিৎসাও প্রয়োজন হতে পারে।
৭. ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডের সমস্যা
ডায়াবেটিসের কারণে স্নায়ুর অনুভূতি ও রক্ত চলাচলে সমস্যা হতে পারে। ফলে পায়ের ছোট ক্ষত বা ফাটল অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। থাইরয়েডের কিছু সমস্যার সঙ্গেও অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের সম্পর্ক রয়েছে।
তাই বারবার পা ফাটলে বা দীর্ঘদিন যত্ন নেওয়ার পরও ভালো না হলে এর পেছনে কোনো শারীরিক কারণ আছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
পা ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায়
পায়ের গোড়ালি সামান্য ফাটা থাকলে এবং গভীর ক্ষত বা সংক্রমণ না থাকলে নিয়মিত ঘরোয়া যত্নে উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহারের সময় ত্বক ঘষে ক্ষত তৈরি করা যাবে না।
১. রাতে পায়ে ভ্যাসলিন লাগান
পা ফাটা দূর করার সহজ ও কার্যকর উপায়গুলোর মধ্যে পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভ্যাসলিন ব্যবহার অন্যতম। এটি ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করে, যার ফলে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে না।
যেভাবে ব্যবহার করবেন:
১. রাতে ঘুমানোর আগে পা পরিষ্কার করে নিন।
২. পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে পা আলতোভাবে মুছে নিন।
৩. পায়ের গোড়ালি ও শুষ্ক অংশে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাসলিন লাগান।
৪. এরপর পরিষ্কার সুতি মোজা পরে ঘুমাতে পারেন।
৫. প্রতিদিন রাতে নিয়মিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
ত্বকের উপরিভাগের শুষ্কতা কমাতে এবং ছোট ফাটল সুরক্ষিত রাখতে এ পদ্ধতি সহায়ক হতে পারে। তবে গভীর, রক্তপাত হওয়া বা সংক্রমিত ফাটলে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
২. কুসুম গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখুন
পায়ের গোড়ালিতে শক্ত ও মৃত চামড়া জমে গেলে তা নরম করতে কুসুম গরম পানিতে অল্প সময় পা ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না।
যেভাবে করবেন:
একটি পাত্রে কুসুম গরম পানি নিন।
প্রায় ১০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন।
পা তুলে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুছে নিন।
ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার বা ফুট ক্রিম লাগান।
প্রতিদিন দীর্ঘ সময় পা পানিতে ডুবিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। এতে ত্বক আরও শুষ্ক হতে পারে। পায়ে গভীর ক্ষত, সংক্রমণ বা ডায়াবেটিসজনিত অনুভূতির সমস্যা থাকলে নিজে থেকে পা ভিজিয়ে রাখার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৩. নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন
নারকেল তেল ত্বকে তৈলাক্ত আবরণ তৈরি করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। পায়ের গোড়ালি শুষ্ক হলে রাতে অল্প নারকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
ব্যবহারের নিয়ম:
পা পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন।
গোড়ালির শুষ্ক অংশে অল্প নারকেল তেল লাগান।
হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন।
প্রয়োজন হলে সুতি মোজা পরে ঘুমান।
তবে নারকেল তেল পা ফাটার সব সমস্যার চিকিৎসা নয়। ত্বকে অ্যালার্জি, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
৪. ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
পায়ের গোড়ালি নরম রাখতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। সাধারণ বডি লোশনের তুলনায় ঘন ক্রিম বা ফুট বাম অনেক ক্ষেত্রে বেশি উপযোগী হতে পারে।
এ ধরনের ক্রিমে ইউরিয়া, গ্লিসারিন, পেট্রোলাটাম বা ল্যাকটিক অ্যাসিডের মতো উপাদান থাকতে পারে। ইউরিয়া ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং শক্ত হয়ে যাওয়া চামড়া নরম করতে সাহায্য করে।
গোসলের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে পায়ের গোড়ালিতে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর অভ্যাস করুন। তবে আঙুলের ফাঁকে অতিরিক্ত ক্রিম জমিয়ে রাখবেন না।
৫. পিউমিস স্টোন দিয়ে শক্ত চামড়া আলতোভাবে পরিষ্কার করুন
পায়ের গোড়ালিতে অতিরিক্ত শক্ত ও মৃত চামড়া জমে গেলে পিউমিস স্টোন বা ফুট ফাইল দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করা যেতে পারে। এতে শক্ত চামড়ার পুরুত্ব কমতে সাহায্য হয়।
যেভাবে ব্যবহার করবেন:
১. পা পরিষ্কার করে নিন।
২. শক্ত চামড়া কিছুটা নরম হওয়ার পর পিউমিস স্টোন ব্যবহার করুন।
৩. খুব হালকা হাতে গোড়ালির শক্ত অংশে ঘষুন।
৪. একবারে বেশি চামড়া তুলে ফেলার চেষ্টা করবেন না।
৫. শেষে ময়েশ্চারাইজার লাগান।
ফাটা জায়গায় রক্তপাত, ব্যথা, ক্ষত বা সংক্রমণ থাকলে পিউমিস স্টোন ব্যবহার করবেন না। ব্লেড, কাঁচি বা ধারালো কিছু দিয়ে শক্ত চামড়া কাটার চেষ্টা করাও বিপজ্জনক।
৬. সঠিক জুতা ও সুতি মোজা ব্যবহার করুন
পা ফাটা কমাতে শুধু ক্রিম ব্যবহার করলেই হবে না; গোড়ালির ওপর চাপও কমাতে হবে। পেছন খোলা স্যান্ডেলের পরিবর্তে গোড়ালিকে সমর্থন দেয় এমন আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন।
শীতকালে পরিষ্কার ও শুকনো সুতি মোজা পরতে পারেন। তবে ভেজা বা ঘামে ভেজা মোজা দীর্ঘ সময় পরে থাকবেন না। জুতা যেন খুব আঁটসাঁট বা ঢিলেঢালা না হয়, সেটিও খেয়াল রাখুন।
৭. পা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন
প্রতিদিন পা পরিষ্কার রাখুন। গোসলের পর পায়ের আঙুলের ফাঁকসহ পুরো পা ভালোভাবে মুছে নিন। পা ভেজা রেখে জুতা বা মোজা পরলে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পা পরিষ্কারের জন্য অতিরিক্ত শক্ত সাবান বা ক্ষারযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার না করাই ভালো। কোমল ক্লিনজার ব্যবহার করুন এবং গোসলের পর গোড়ালিতে ময়েশ্চারাইজার লাগান।
শীতে পা ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায়
শীতকালে পা ফাটার সমস্যা বেশি দেখা যায়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়। তাই শীতের শুরু থেকেই পায়ের গোড়ালির যত্ন নেওয়া ভালো।
শীতে পা ফাটা প্রতিরোধে কয়েকটি অভ্যাস অনুসরণ করুন—
গোসলের পরপরই পায়ের গোড়ালিতে ঘন ময়েশ্চারাইজার লাগান।
রাতে ঘুমানোর আগে ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করুন।
প্রয়োজনে পরিষ্কার সুতি মোজা পরে ঘুমান।
অতিরিক্ত গরম পানিতে পা ধোয়া বা দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রাখা এড়িয়ে চলুন।
ঘরের বাইরে গেলে আরামদায়ক ও গোড়ালি ঢাকা জুতা পরুন।
পায়ের ত্বক শুষ্ক মনে হলেই ময়েশ্চারাইজার লাগান।
শীতকালে শুধু ফাটল তৈরি হওয়ার পর চিকিৎসা শুরু না করে আগে থেকেই নিয়মিত যত্ন নেওয়া বেশি কার্যকর।
গরমে পা ফাটা দূর করার উপায়
অনেকে মনে করেন, পা ফাটার সমস্যা শুধু শীতকালেই হয়। বাস্তবে গরমকালেও পায়ের গোড়ালি ফাটতে পারে। গরমে খালি পায়ে হাঁটা, রোদে দীর্ঘ সময় থাকা, ধুলাবালি, ঘাম এবং পেছন খোলা স্যান্ডেল ব্যবহারের কারণে পায়ের ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গরমে পা ফাটা কমাতে—
১. বাইরে গেলে আরামদায়ক ও গোড়ালিকে সমর্থন দেয় এমন জুতা পরুন।
২. প্রতিদিন পা পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
৩. পায়ের ত্বক শুষ্ক হলে হালকা বা ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
৪. রাতে প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্যাসলিন লাগাতে পারেন।
৫. ঘামে ভেজা মোজা বা জুতা দীর্ঘক্ষণ পরে থাকবেন না।
৬. পায়ের আঙুলের ফাঁক পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।
৭. খালি পায়ে শক্ত বা গরম মেঝেতে দীর্ঘক্ষণ হাঁটা এড়িয়ে চলুন।
গরমে পায়ের আঙুলের ফাঁকে চুলকানি, চামড়া ওঠা বা দুর্গন্ধ থাকলে শুধু ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করে ছত্রাক সংক্রমণ আছে কি না, তা চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করান।
পা ফাটা দূর করার জন্য কোন ক্রিম ভালো?
পা ফাটা দূর করার জন্য এমন ক্রিম বেছে নেওয়া ভালো, যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং শক্ত হয়ে যাওয়া চামড়া নরম করতে সাহায্য করে। ক্রিমের উপাদান ও ঘনত্বের ওপর এর কার্যকারিতা নির্ভর করে।
১. ইউরিয়া ক্রিম
পায়ের গোড়ালি ফাটা ও শক্ত চামড়া নরম করার জন্য ইউরিয়াযুক্ত ক্রিম বহুল ব্যবহৃত। ইউরিয়া ত্বকে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং পুরু, শক্ত চামড়া নরম করতে পারে।
১০ শতাংশ ইউরিয়াযুক্ত ক্রিম তুলনামূলক শুষ্ক ত্বকে ব্যবহার করা হয়। ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বা তার বেশি ঘনত্বের ইউরিয়াযুক্ত ক্রিম শক্ত ও পুরু চামড়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে ফাটা জায়গা গভীর, কাঁচা বা রক্তপাত হওয়া অবস্থায় ইউরিয়া ক্রিম লাগালে জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই ক্ষতস্থানে ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. পেট্রোলিয়াম জেলি
পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভ্যাসলিন শুষ্ক ও ফাটা গোড়ালিতে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি তুলনামূলক সহজলভ্য এবং রাতের পরিচর্যায় ব্যবহার করা যায়।
গোসলের পর বা ঘুমানোর আগে পরিষ্কার পায়ের গোড়ালিতে লাগাতে পারেন। এরপর সুতি মোজা পরলে ক্রিম বা জেলি বিছানায় লেগে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।
৩. গ্লিসারিনযুক্ত ফুট ক্রিম
গ্লিসারিন ত্বকে পানি ধরে রাখতে সহায়তা করে। গ্লিসারিনযুক্ত ফুট ক্রিম নিয়মিত ব্যবহার করলে শুষ্ক ও খসখসে ত্বক নরম হতে পারে। যাঁদের গোড়ালি খুব বেশি ফাটেনি, তাঁরা দৈনন্দিন যত্নে এ ধরনের ময়েশ্চারাইজার বিবেচনা করতে পারেন।
৪. ল্যাকটিক অ্যাসিডযুক্ত ক্রিম
ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের শক্ত ও মৃত কোষ নরম করতে সাহায্য করে। কিছু ফুট ক্রিমে এটি ময়েশ্চারাইজিং উপাদানের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। তবে সংবেদনশীল বা ক্ষতযুক্ত ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই উপযুক্ত পণ্য ও ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।
৫. স্যালিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত ক্রিম
স্যালিসিলিক অ্যাসিড শক্ত ও পুরু হয়ে যাওয়া চামড়া নরম করতে ব্যবহৃত হয়। তবে এটি সবার জন্য উপযোগী নয়। গভীর ফাটল, খোলা ক্ষত, ডায়াবেটিস বা পায়ের অনুভূতি কমে যাওয়ার সমস্যা থাকলে নিজে থেকে ব্যবহার করবেন না।
পা ফাটা দূর করার ক্রিমের নাম ও বাংলাদেশে দাম
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ফুট ক্রিম ও ইউরিয়াযুক্ত ক্রিম পাওয়া যায়। কয়েকটি পণ্যের নাম ও আনুমানিক দাম নিচে দেওয়া হলো। এগুলো বাজারে পাওয়া পণ্যের উদাহরণ; ব্যক্তিগতভাবে কোনো একটি ক্রিম ব্যবহারের নির্দেশনা নয়।
ক্রিমের নাম
প্যাক সাইজ
আনুমানিক দাম
Heel Guard 25% Cream
৩০ গ্রাম
প্রায় ১৪৪–১৫০ টাকা
Emurea 25% Cream
৩০ গ্রাম
প্রায় ১৪১–১৫০ টাকা
Eucera Cream
৫০ গ্রাম
প্রায় ১২০–১২৫ টাকা
Uramed 10% Cream
প্যাকভেদে
প্রায় ৪৮ টাকা
Aqua Care 10% Cream
৩০ গ্রাম
প্রায় ৭১ টাকা
Aqua Care 25% Cream
৩০ গ্রাম
প্রায় ১৪৩ টাকা
দাম সম্পর্কে সতর্কতা: অনলাইন ফার্মেসি, দোকান, প্যাক সাইজ ও ছাড় অনুযায়ী দাম পরিবর্তিত হতে পারে। কেনার আগে পণ্যের উপাদান, মেয়াদ, প্রস্তুতকারক এবং ব্যবহারের নির্দেশনা দেখে নিন। কিছু ইউরিয়া ক্রিম ওষুধ হিসেবে বিক্রি হয় এবং নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষ করে Heel Guard 25% বা Emurea 25%-এর মতো উচ্চ ঘনত্বের ইউরিয়া ক্রিম নিজের ইচ্ছায় ব্যবহার না করে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন। ডায়াবেটিস, গভীর ক্ষত, রক্তপাত বা সংক্রমণ থাকলে আগে চিকিৎসা মূল্যায়ন জরুরি।
কোন ভিটামিনের অভাবে পা ফেটে যায়?
অনেকেই জানতে চান, কোন ভিটামিনের অভাবে পা ফেটে যায়। সাধারণভাবে পায়ের গোড়ালি ফাটার প্রধান কারণ কোনো একটি নির্দিষ্ট ভিটামিনের অভাব নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ত্বকের শুষ্কতা, শক্ত চামড়া, গোড়ালিতে অতিরিক্ত চাপ এবং জুতার ধরন এর সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।
তবে শরীরে কিছু ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতি হলে ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যেমন—
ভিটামিন এ: এর ঘাটতিতে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হতে পারে।
ভিটামিন বি৩ বা নিয়াসিন: গুরুতর ঘাটতিতে পেলাগ্রা নামের সমস্যা হতে পারে, যাতে ত্বকে র্যাশসহ অন্যান্য লক্ষণ দেখা যায়।
জিঙ্ক: জিঙ্কের ঘাটতিতে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও ক্ষত সারতে দেরি হতে পারে।
আয়রন: আয়রনের ঘাটতিতে শরীরের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে; তবে শুধু পা ফাটা দিয়ে আয়রনের অভাব নির্ণয় করা যায় না।
শুধু গোড়ালি ফাটছে বলে নিজে থেকে ভিটামিন বা জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। খাবারে পুষ্টির ঘাটতি আছে কি না, অন্য উপসর্গ রয়েছে কি না এবং প্রয়োজন হলে পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসক তা নির্ধারণ করবেন।
হাত-পা ফাটা দূর করার উপায়
শুধু পায়ের গোড়ালি নয়, শীতকালে হাত, আঙুল, আঙুলের গিঁট ও পায়ের অন্যান্য অংশও ফেটে যেতে পারে। ঠান্ডা বাতাস, বারবার সাবান ব্যবহার, ডিটারজেন্ট ও পানির সংস্পর্শে থাকার কারণে এ সমস্যা বাড়ে।
হাত-পা ফাটা কমাতে—
হাত ও পা ধোয়ার পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগান।
বাসন বা কাপড় ধোয়ার সময় সুরক্ষামূলক গ্লাভস ব্যবহার করুন।
অতিরিক্ত গরম পানি ও শক্ত সাবান এড়িয়ে চলুন।
রাতে হাত-পায়ের শুষ্ক অংশে ঘন ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান।
বাইরে ঠান্ডা বাতাসে গেলে হাতমোজা ও উপযুক্ত জুতা ব্যবহার করুন।
ফাটা জায়গা বারবার টেনে চামড়া ছাড়াবেন না।
হাত ও পা একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ফাটতে থাকলে একজিমা, সোরিয়াসিস বা অন্য কোনো ত্বকের সমস্যা আছে কি না, তা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন হতে পারে।
পা ফাটা দূর করতে যেসব ভুল করবেন না
পায়ের গোড়ালি দ্রুত নরম করার জন্য অনেকেই কিছু প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করেন। কিন্তু সব পদ্ধতি নিরাপদ নয়। ভুল পদ্ধতি ব্যবহার করলে ফাটল আরও গভীর হতে পারে বা সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।
লেবুর রস লাগাবেন না: লেবুর রসের অ্যাসিড ফাটা ত্বকে জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ তৈরি করতে পারে। এটি পা ফাটা সারানোর নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা নয়।
ব্লেড বা কাঁচি দিয়ে শক্ত চামড়া কাটবেন না: নিজে শক্ত চামড়া কেটে ফেললে সুস্থ ত্বকও কেটে যেতে পারে। এতে রক্তপাত ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না: পিউমিস স্টোন বা ফুট ফাইল দিয়ে বেশি ঘষলে ত্বকে ক্ষত তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ফাটা জায়গায় জোরে ঘষা উচিত নয়।
খুব গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখবেন না: গরম পানি ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমিয়ে শুষ্কতা বাড়াতে পারে।
ক্ষতস্থানে যেকোনো ক্রিম ব্যবহার করবেন না: ইউরিয়া, স্যালিসিলিক অ্যাসিড বা অন্য সক্রিয় উপাদানযুক্ত ক্রিম গভীর ফাটলে জ্বালাপোড়া করতে পারে। খোলা ক্ষত বা রক্তপাত থাকলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পা ফাটা দূর করতে ডাক্তারের পরামর্শ কখন প্রয়োজন?
সাধারণ শুষ্কতার কারণে পা ফাটলে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ও সঠিক জুতা পরার মাধ্যমে উপকার পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে পা ফাটা অন্য শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
নিচের পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
পায়ের গোড়ালি গভীরভাবে ফেটে গেলে।
ফাটা জায়গা থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হলে।
গোড়ালিতে লালচে ভাব, ফোলা, অতিরিক্ত গরম অনুভূতি বা ব্যথা দেখা দিলে।
হাঁটাচলা করতে অসুবিধা হলে।
নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরও এক সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি না হলে।
পায়ের ত্বকে চুলকানি, খোসা ওঠা বা আঙুলের ফাঁকে সাদা দাগ থাকলে।
বারবার পা ফাটলে বা একই সমস্যা ফিরে এলে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা: ডায়াবেটিস থাকলে পায়ের ছোট ফাটলও অবহেলা করা উচিত নয়। পায়ের অনুভূতি কমে গেলে ক্ষত বা সংক্রমণ বুঝতে দেরি হতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের পা প্রতিদিন পরীক্ষা করা, খালি পায়ে না হাঁটা এবং নতুন ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিজে থেকে পা ঘষে শক্ত চামড়া তুলে ফেলা বা ব্লেড দিয়ে কাটা উচিত নয়।
পা ফাটা প্রতিরোধে প্রতিদিনের যত্নের রুটিন
পায়ের গোড়ালি নরম রাখতে প্রতিদিনের পরিচর্যা নিয়মিত হওয়া জরুরি। একদিন ক্রিম ব্যবহার করে পরের কয়েক দিন বাদ দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও পাওয়া যেতে পারে।
সকালে:
ঘুম থেকে উঠে পায়ের গোড়ালি পরীক্ষা করুন।
পা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।
প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার লাগান।
গোড়ালিকে সমর্থন দেয় এমন জুতা পরুন।
গোসলের পর:
কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।
পা আলতোভাবে মুছে নিন।
গোড়ালি সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান।
রাতে:
পা পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন।
গোড়ালিতে ঘন ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান।
প্রয়োজন হলে পরিষ্কার সুতি মোজা পরে ঘুমান।
নিয়মিত এই পরিচর্যা করলে সাধারণ শুষ্কতা ও ছোট ফাটল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। তবে গভীর ফাটল বা অন্য রোগের কারণে সমস্যা হলে চিকিৎসা প্রয়োজন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
১. পা ফাটা দূর করার জন্য কোন ঔষধ ভালো?
সাধারণ শুষ্কতা ও শক্ত গোড়ালির ক্ষেত্রে ইউরিয়াযুক্ত ফুট ক্রিম, পেট্রোলিয়াম জেলি বা ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হয়। তবে কোন ঘনত্বের ক্রিম উপযোগী হবে, তা ত্বকের অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হয়। গভীর ফাটল, রক্তপাত বা সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
২. পায়ের গোড়ালি নরম করার কিছু ঘরোয়া উপায় কী কী?
পায়ের গোড়ালি নরম করতে রাতে ভ্যাসলিন লাগানো, কুসুম গরম পানিতে অল্প সময় পা ভিজিয়ে রাখা, গোসলের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং পরিষ্কার সুতি মোজা পরা যেতে পারে। শক্ত চামড়া থাকলে সুস্থ ত্বকে খুব আলতোভাবে পিউমিস স্টোন ব্যবহার করা যায়।
৩. পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ কী এবং এর প্রতিকার কী?
ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, গোড়ালিতে অতিরিক্ত চাপ, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, খোলা স্যান্ডেল ব্যবহার এবং কিছু ত্বকের রোগের কারণে গোড়ালি ফাটতে পারে। প্রতিকারে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, গোড়ালি ঢাকা জুতা পরা, অতিরিক্ত গরম পানি এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
৪. কোন ভিটামিনের অভাবে পা ফেটে যায়?
পা ফাটার নির্দিষ্ট কোনো একক ভিটামিনের ঘাটতি নেই। ভিটামিন এ, বি৩, জিঙ্ক বা অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতিতে ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে শুধু পা ফাটা দিয়ে এসব ঘাটতি নির্ণয় করা যায় না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করাতে হবে।
৫. পা ফাটা দূর করার ক্রিম বাংলাদেশে কত টাকা?
বাংলাদেশে ইউরিয়াযুক্ত ফুট ক্রিমের কিছু ৩০ গ্রামের প্যাকের দাম প্রায় ৭০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে দেখা যায়। ব্র্যান্ড, উপাদান, প্যাক সাইজ ও বিক্রেতাভেদে দাম পরিবর্তিত হয়। কেনার আগে পণ্যের উপাদান ও মেয়াদ দেখে নিন।
৬. পা ফাটা দূর করার ক্রিমের নাম কী?
বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন কয়েকটি পণ্যের উদাহরণ হলো Heel Guard 25% Cream, Emurea 25% Cream, Eucera Cream, Uramed 10% Cream এবং Aqua Care Cream। তবে এগুলোর সবগুলো সবার জন্য উপযোগী নয়। বিশেষ করে উচ্চ ঘনত্বের ইউরিয়া ক্রিম ব্যবহারের আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।
৭. শীতকালে পা বেশি ফাটে কেন?
শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায় এবং ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়। গরম পানি দিয়ে গোসল, পায়ে ময়েশ্চারাইজার না লাগানো এবং খোলা স্যান্ডেল ব্যবহারের কারণে গোড়ালির ফাটল বাড়তে পারে।
৮. গরমকালেও কি পা ফাটতে পারে?
হ্যাঁ। গরমে খালি পায়ে হাঁটা, রোদে থাকা, ধুলাবালি, ভুল জুতা এবং পায়ের ত্বকের শুষ্কতার কারণে গোড়ালি ফাটতে পারে। এ সময় পা পরিষ্কার ও শুকনো রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো।
৯. পা ফাটা ভালো হতে কত দিন লাগে?
ফাটলের গভীরতা, কারণ এবং নিয়মিত যত্নের ওপর সময় নির্ভর করে। ছোট ও অগভীর ফাটল নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে ধীরে ধীরে ভালো হতে পারে। গভীর ফাটল, সংক্রমণ বা অন্য রোগ থাকলে বেশি সময় লাগতে পারে এবং চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
১০. পা ফাটা অবস্থায় কি পিউমিস স্টোন ব্যবহার করা যাবে?
শুধু শক্ত ও মৃত চামড়া থাকলে এবং কোনো ক্ষত বা রক্তপাত না থাকলে খুব আলতোভাবে পিউমিস স্টোন ব্যবহার করা যেতে পারে। গভীর ফাটল, ব্যথা, সংক্রমণ বা ডায়াবেটিসজনিত পায়ের সমস্যায় নিজে থেকে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
উপসংহার
পা ফাটা দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত পায়ের যত্ন নেওয়া এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা। রাতে ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার, গোসলের পর ময়েশ্চারাইজার লাগানো, প্রয়োজনে ইউরিয়াযুক্ত ফুট ক্রিম ব্যবহার এবং গোড়ালিকে সমর্থন দেয় এমন জুতা পরার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে পায়ের গোড়ালি নরম রাখা সম্ভব।
তবে পায়ের গোড়ালি গভীরভাবে ফেটে গেলে, রক্তপাত হলে, ব্যথা বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে শুধু ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। ডায়াবেটিস থাকলে পায়ের যেকোনো ফাটলকে গুরুত্ব দিতে হবে। মনে রাখবেন, নিয়মিত যত্নের পাশাপাশি সমস্যার প্রকৃত কারণ জানা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই সুস্থ পা বজায় রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়।